সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সুষম খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিনের খাবার শুধু শরীরের পুষ্টির চাহিদাই পূরণ করে না, বরং কানের মতো সংবেদনশীল অঙ্গের কার্যকারিতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অন্তঃকর্ণের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্রবণশক্তি সুরক্ষায় সহায়ক।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একবার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধুমাত্র খাবারের মাধ্যমে তা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ক্ষতির গতি কমাতে এবং কানের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
শব্দতরঙ্গ কানের পর্দা অতিক্রম করে অন্তঃকর্ণে পৌঁছালে সেখানে থাকা অসংখ্য সূক্ষ্ম রোমকোষ (হেয়ার সেল) তা বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়। এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চালু রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্তপ্রবাহ। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগের কারণে রক্তনালির ক্ষতি হলে কানের কার্যকারিতাও প্রভাবিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর অভ্যাস কানের জন্যও সমানভাবে ক্ষতিকর। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু উপকারী খাবার রাখা জরুরি।
চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ
স্যালমন ও ম্যাকেরেলের মতো মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ডি সরবরাহ করে, যা কানের হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে।
সবুজ শাকসবজি
পালং শাকসহ গাঢ় সবুজ শাকসবজিতে থাকা ফোলেট ও ম্যাগনেসিয়াম কানের সংবেদনশীল কোষ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার
আখরোট, কাঠবাদাম ও কুমড়ার বীজে থাকা জিঙ্ক এবং ভিটামিন ই কানের জন্য উপকারী পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।
লেবুজাতীয় ফল
কমলা, মাল্টা ও জাম্বুরার মতো ফলের ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কানের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ডিম
ডিমে থাকা ভিটামিন বি-১২ ও প্রোটিন শ্রবণতন্ত্রের স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক।
শিম ও ডাল
এসব খাবার উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের পাশাপাশি আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস।
ডার্ক চকোলেট
কমপক্ষে ৭০ শতাংশ কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেটে থাকা জিঙ্ক ও ম্যাগনেসিয়াম কানের কোষের বিকাশে সহায়তা করতে পারে।
কলা
পটাসিয়ামসমৃদ্ধ কলা অন্তঃকর্ণের তরলের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
অ্যাভোকাডো
স্বাস্থ্যকর চর্বিতে সমৃদ্ধ অ্যাভোকাডো শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন শোষণে সহায়তা করে।
গোটা শস্যজাতীয় খাবার
ওটস ও লাল চালের মতো হোল গ্রেইন শব্দজনিত কারণে কানের ক্ষতির ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বাড়িয়ে কানের ভেতরের তরলের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন বেকন ও হট ডগ, এবং ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ ভাজাপোড়া খাবার রক্তনালির ক্ষতি করে কানের সূক্ষ্ম রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে বয়সজনিত বা শব্দজনিত কিছু ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও জিনগত বা স্থায়ী শ্রবণ সমস্যা শুধুমাত্র খাবারের মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। তাই শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস) শোনা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে আধুনিক শ্রবণ সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও বিবেচনা করা উচিত।
