শ্রীলঙ্কা সফরের শেষ প্রান্তে এসে নতুন করে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এক মাসের দীর্ঘ সফরে ক্লান্তি থাকলেও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বড় জয়ের মাধ্যমে ড্রেসিংরুমে ফিরেছে আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই শেষ ম্যাচে ভালো কিছু দেখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন ১-১ সমতা। ফলে বুধবারের শেষ ম্যাচটি হয়ে দাঁড়িয়েছে অলিখিত ফাইনাল। এই ম্যাচ জিতলেই শ্রীলঙ্কার মাটিতে একটি বহুল প্রতীক্ষিত সিরিজ জয় নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। বিসিবি সভাপতি বুলবুল মনে করছেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রস্তুত টাইগাররা। গতকাল তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে এককভাবে কৃতিত্ব দিতে চাই না। এই জয়ের পেছনে পুরো দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্স রয়েছে। শামীম, লিটন—সবাই ভালো খেলেছে। বোলাররাও সময়মতো ছন্দে ফিরেছে। এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। যতটা সম্ভব ভুল কমিয়ে সামনে এগোতে হবে।’
২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ জয় আসেনি বাংলাদেশের। টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি—কোনো ফরম্যাটেই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বুলবুল স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সফরের টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘এই সফরের আগেই একটি জেতা টেস্ট ম্যাচ আমরা ড্র করেছি। এরপর এসেছে পরাজয়। ওয়ানডেতে প্রথম ম্যাচটাও আমাদের হাতে ছিল, কিন্তু ব্যাটিং ধসের কারণে হারতে হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলেও শেষটায় আবার হার। টি-টোয়েন্টিতে প্রথমটি হেরেছি, দ্বিতীয়টা জিতেছি। অর্থাৎ, উন্নতির জায়গা এখনও রয়ে গেছে। তবে সঠিকভাবে চেষ্টা করলে জয় সম্ভব।’
এদিকে, শ্রীলঙ্কা সফর শেষ হতেই বিশ্রামের সময় মিলছে না টাইগারদের। সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি চ্যালেঞ্জ—পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ইতোমধ্যে পাকিস্তান দল ঢাকায় পৌঁছাতে যাচ্ছে, সিরিজ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বিসিবি একাডেমি মাঠ পরিদর্শন করেছেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম। মাঠের প্রস্তুতি, অনুশীলন সুবিধা, কিউরেটর ও গ্রাউন্ড স্টাফদের কাজের খোঁজখবরও নিয়েছেন তারা।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের বড় চ্যালেঞ্জ—ধারাবাহিকতা এবং মানসিক দৃঢ়তা। সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে দল মাঝে মাঝে ভালো পারফর্ম করলেও তা ধরে রাখতে পারছে না। এ ব্যাপারে বুলবুল বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, দল আরও ভালো করবে যদি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় উন্নতি আনা যায়।’
তাই, শ্রীলঙ্কা সফরের শেষ ম্যাচটি শুধু সম্মান রক্ষার লড়াই নয়—এটি আত্মবিশ্বাস ফেরানোর বড় সুযোগও। পাশাপাশি, সামনে থাকা পাকিস্তান সিরিজের আগে আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারেরও উপলক্ষ। টাইগারদের সামনে এখন দুটি কাজ—স্মরণীয় এক সফরের সমাপ্তি টানা এবং পাকিস্তান সিরিজের জন্য প্রস্তুত হওয়া। বিসিবির নজর এখন এই দুই চ্যালেঞ্জে। অপেক্ষা শুধু মাঠের ফলাফলের।
