ছবি:-সংগৃহীত
১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ শিক্ষার পরিবেশকে অনেক ক্ষেত্রেই কলুষিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরার। তিনি বলেন, “স্বায়ত্তশাসনের (অটোনমি) নামে শিক্ষকেরা রাজনীতির সঙ্গে যেভাবে সম্পৃক্ত হয়ে গেছেন এবং জাতীয় রাজনীতির পঙ্কিল ধারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও যে প্রভাব ফেলেছে, তা আমরা সবাই জানি।”
শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। “অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে কেমন বিশ্ববিদ্যালয় পেলাম?” শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ রাতারাতি বাতিল করা কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়। এটি ভেতর থেকে সংস্কার করার বিষয় এবং সে সংস্কারের জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই দাবি উঠতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর সাম্প্রতিক অচলাবস্থার কারণেও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। সেখানে শিক্ষক সমিতির নেতারাই প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন, ফলে দ্বৈত ভূমিকা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, কুয়েটের ঘটনায় সরকার কিছুই করেনি—এটা বলা ঠিক নয়। সরকার দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে—একটি ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) এবং আরেকটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ইউজিসি সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং আর্থিক অনিয়ম তদন্ত করেছে, আর মন্ত্রণালয়ের কমিটি দেখেছে ঘটনাগুলোর দায়ভার কার, শিক্ষার্থীদের দাবি কী ছিল ইত্যাদি।
উপাচার্য নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আগে একক সিদ্ধান্তে উপাচার্য নিয়োগ হতো, এখন একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই কমিটিতে ইউজিসি প্রতিনিধি, একজন বিশেষজ্ঞ এবং একজন উপাচার্য থাকেন। তিনি এটিকে একটি কাঠামোগত রূপান্তর হিসেবে দেখছেন এবং বলেন, এই পদ্ধতিতে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন উঠেনি।
জুলাইয়ের সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দেশের শিক্ষা খাতে নতুন কিছু প্রশ্ন সামনে এনেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাঠামোগত যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
