লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, ৭০ জন অভিবাসনের স্বপ্নভঙ্গ

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৪-০৬
ছবি: সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।স্থানীয় সূত্র ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, রোববার এক শিশুসহ ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে করে ইতালির পার্শ্ববর্তী দ্বীপ ল্যাম্পাদুসায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে লিবিয়ার তাজুরা বন্দর থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ছোট নৌকা ইতালির উদ্দেশে রওনা দেয়।ইতালির কোস্টগার্ডের মুখপাত্র রবার্তো ডি আরিগো জানান, লিবিয়া কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইতালি ও লিবিয়ার দুটি বাণিজ্যিক জাহাজও সহায়তায় এগিয়ে আসে। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ইতালিয়ান জাহাজে করে ল্যাম্পাদুসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আইওএমের এক মুখপাত্র বলেন, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ১২০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংখ্যা নিশ্চিত হলে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অভিবাসী দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় অন্তত দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মৃত্যু নথিভুক্ত করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই লিবিয়া, ইতালি ও মাল্টার জলসীমায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া তুরস্ক-গ্রিস ও মরক্কো-স্পেন রুটেও বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস অতীতে ভূমধ্যসাগরকে “ইউরোপের বৃহত্তম সমাধিস্থল” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘মেডিটেরানিয়ান সেভিং হিউম্যানস’ এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের নৌকাডুবি কেবল দুর্ঘটনা নয়; বরং ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর অভিবাসন নীতির ফল। বৈধ ও নিরাপদ পথে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ সীমিত থাকায় মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহে ইতালির কোস্টগার্ড ১৯টি মরদেহ উদ্ধার এবং ৫৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছিল।

error: Content is protected !!