ছবি সংগৃহীত
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতা আরও বেড়েছে। তিনি বর্তমানে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। এ পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় হাসপাতালের আশপাশে উদ্বেগ–উৎকণ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে ছুটে যান। সরকারের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত হন। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি ও চিকিৎসকদের ব্রিফিং নিয়ে নিয়মিত আপডেট প্রচার করা হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রধান উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিবৃতি দিয়েছেন।
শুক্রবার রাত থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে উপস্থিত হন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। রাত পৌনে ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় বিএনপি মহাসচিব জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন এবং দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চান।
রাত ২টার দিকে হাসপাতালে যান স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সাংবাদিকদের তিনি জানান, খালেদা জিয়াকে সালাম দিলে তিনি মাথা নাড়িয়ে সাড়া দিয়েছেন। তবে জ্ঞান থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়।
মধ্যরাতে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি লেখেন, “এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এখনই ফিরলাম। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না। সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন।”
এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও হাসপাতালে যান।
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি না রাখতে নির্দেশ দেন এবং জানান, প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতায় সরকার প্রস্তুত।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লেখেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য অনুপ্রেরণা—তার সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে ড. ইউনূসের মানবিক ও সৌজন্যপূর্ণ বক্তব্যের জন্য তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চলমান পরিস্থিতিতে সেখানে ভিড় না করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। রাতে দলের প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করে।
গত ২৩ নভেম্বর রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে আছেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন—তার ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রে সংক্রমণ রয়েছে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডে রয়েছেন অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার ছাড়াও অধ্যাপক এফএস সিদ্দিকী, ডা. জাফর ইকবাল, ডা. জিয়াউল হক, ডা. মামুন আহমেদ ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম।
