প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য সিলেট দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। জেলার আনাচেকানাচে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য স্পট প্রতিদিনই টানে হাজারো পর্যটককে। তবে সাদা পাথর সংক্রান্ত ঘটনার পর থেকে পর্যটন খাতের নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বারবার।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা দাবি জানিয়ে আসছিলেন, পর্যটন খাতকে আরও পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত করা হোক। অবশেষে সেই দাবির বাস্তবায়নে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। বিছানাকান্দি, সাদা পাথর, জাফলং, উৎমাছড়া, লালাখাল ও রাতারগুল—এই ছয়টি জনপ্রিয় স্পটকে কেন্দ্র করে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে তোলা।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের পর্যটন খাত নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স গ্রুপের সাবেক সভাপতি সুমাত নূরী চৌধুরী জুয়েল বলেন, পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সিলেটের পর্যটন খাত বহুগুণে সমৃদ্ধ হবে।
এদিকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও পরিবেশ–স্থাপত্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ১৩ সদস্যের একটি কমিটি ইতোমধ্যেই সাদা পাথর এলাকায় সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। ধাপে ধাপে তারা অন্যান্য পর্যটন স্পটও পরিদর্শন করবেন।
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ জানান, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সবুজ স্থাপত্যের প্রবক্তা অধ্যাপক মো. রফিক আজম বলেন, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখাই প্রধান লক্ষ্য।
মাস্টারপ্ল্যান সমন্বয় কমিটির সভাপতি ড. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের সম্ভাব্য অর্থায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মত, এ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে সিলেটের পর্যটনের সামগ্রিক চিত্র। বাড়বে কর্মসংস্থান, উন্নত হবে স্থানীয় অর্থনীতি এবং ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সিলেট হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব গন্তব্য।
