ছবি: সংগৃহীত
শিশুর সুষম খাদ্যতালিকায় ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন থাকে—ছোট শিশুদের পেঁপে খাওয়ানো নিরাপদ কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে ও পরিমিত পরিমাণে পাকা পেঁপে দিলে এটি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
পেঁপেতে থাকা ‘প্যাপেইন’ নামের প্রাকৃতিক এনজাইম খাবার হজমে সহায়তা করে, বিশেষ করে প্রোটিন ভাঙতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে শিশুদের হজমশক্তি উন্নত করতে পেঁপে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া এতে থাকা উচ্চমাত্রার আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে এবং মল স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। যেসব শিশু নিয়মিত পেট পরিষ্কারের সমস্যায় ভোগে, তাদের জন্য পাকা পেঁপে উপকারী একটি ফল।
পেঁপে গ্যাস ও পেট ফাঁপাভাব কমাতেও সাহায্য করতে পারে। হজমজনিত অস্বস্তিতে শিশুদের কান্নাকাটি বেড়ে গেলে পেঁপে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।
এই ফলে ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি থাকায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং পেটের সংক্রমণের ঝুঁকিও কমাতে পারে।
কখন খাওয়াবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে নাশতার সময় বা দুপুরের খাবারের আগে পেঁপে খাওয়ানো সবচেয়ে উপযোগী। খালি পেটে বা হালকা খাবারের সঙ্গে পেঁপে দিলে হজম ভালো হয়। এছাড়া বিকেলের নাশতা হিসেবেও এটি দেওয়া যেতে পারে, যা শিশুকে দ্রুত শক্তি জোগায়।
তবে রাতে ঘুমানোর আগে পেঁপে না দেওয়াই ভালো। এতে থাকা আঁশ রাতে হজমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে ভারী খাবারের সঙ্গে সঙ্গে পেঁপে না দিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা বিরতি রাখা উচিত।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
সাধারণত ছয় মাস বয়সের পর, যখন শিশু শক্ত খাবার খেতে শুরু করে, তখন থেকেই অল্প পরিমাণে পাকা পেঁপে দেওয়া যেতে পারে। শুরুতে ফলটি চটকে বা পিউরি করে খাওয়ানো ভালো।
সবসময় ভালোভাবে পাকা পেঁপে ব্যবহার করতে হবে। কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপে শিশুর পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। প্রথমবার খাওয়ানোর পর শিশুর শরীরে অ্যালার্জির কোনো লক্ষণ—যেমন র্যাশ বা চুলকানি—দেখা যাচ্ছে কি না, তা লক্ষ্য করা জরুরি। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, সঠিক নিয়ম মেনে পাকা পেঁপে খাওয়ালে এটি শিশুদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর একটি ফল।
