ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে যান চলাচল সংক্রান্ত বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ডিএমপি। সংস্থাটি জানায়, ঈদযাত্রায় যানজট ও ভোগান্তি কমাতে নগরবাসী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং যাত্রীদের কিছু নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।
মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ
ডিএমপি জানায়, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
কিছু সড়ক এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ
আগামী ১৬ মার্চ থেকে ঈদযাত্রার যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মহানগরের অন্যান্য যানবাহনকে কয়েকটি সড়ক এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে
-
ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক (কুড়িল থেকে আব্দুল্লাহপুর)
-
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক (গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড)
-
ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক/মিরপুর রোড (আড়ং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার)
-
ঢাকা–কেরানীগঞ্জ সড়ক (ফুলবাড়িয়া–তাঁতীবাজার–বাবুবাজার ব্রিজ)
-
ঢাকা–মাওয়া মহাসড়ক (গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ)
-
মোহাম্মদপুর বসিলা ক্রসিং থেকে বসিলা ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক
-
আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ সড়ক
-
ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক
গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য নির্দেশনা
গণপরিবহন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ডিএমপি জানিয়েছে—
-
আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী তুলে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে।
-
অনুমোদিত কাউন্টার বা স্টপেজ ছাড়া পথে যাত্রী ওঠানো-নামানো যাবে না।
-
ঢাকা মহানগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সড়কে বাস পার্কিং করা যাবে না।
-
বিআরটিসি বাস নিজ নিজ ডিপো থেকে সরাসরি নির্ধারিত বিভাগের জেলায় যাবে; মহানগরী অতিক্রম করা যাবে না।
-
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস ছাড়তে হবে।
-
নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না এবং যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না।
-
একই আসনের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা যাবে না এবং বাসের ছাদে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ।
-
গতিসীমা মেনে চলতে হবে এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না।
-
নিষিদ্ধ এলাকায়, বাঁক বা সরু সেতুতে ওভারটেকিং করা যাবে না।
-
মাদকাসক্ত অবস্থায় বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না।
-
বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না।
-
গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং বাসে উচ্চস্বরে গান বাজানো নিষিদ্ধ।
-
উল্টো পথে গাড়ি চালানো যাবে না।
-
চালকদের লাইসেন্স যাচাই করে নিয়োগ দিতে হবে এবং একটানা পাঁচ ঘণ্টা বা দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না।
-
ফিটনেসবিহীন বা যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত যানবাহন সড়কে নামানো যাবে না।
যাত্রী ও পথচারীদের জন্য পরামর্শ
যাত্রী ও পথচারীদের প্রতিও কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। এর মধ্যে রয়েছে—
-
নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠতে হবে।
-
অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা।
-
ভ্রমণের সময় ব্যক্তিগত মালামাল নিজের দায়িত্বে রাখা।
-
নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনাল বা কাউন্টারে উপস্থিত হওয়া।
-
রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করা।
-
চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা না করা এবং পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ না করা।
-
মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা দৌড়ে রাস্তা পার না হওয়া।
-
ফুটপাত ব্যবহার করে চলাচল করা।
ডিএমপি বলছে, এসব নির্দেশনা মেনে চললে ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে।

