ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় মাজারের তিনটি দানের ডেগে সিলগালা করা হয় এবং একটি বড় প্রধান দানবাক্সসহ কয়েকটি ছোট দানবাক্স মাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়। নতুন স্থাপিত দানবাক্সগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১২ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেন। সে সময় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দান সংগ্রহ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে দানবাক্সে তালা লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, সিলেটের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন দুটি প্রতিষ্ঠান—হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য প্রশাসন কাজ করছে। এর মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য মাজারের ব্যবস্থাপনাও পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার সিলেটের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য ভক্ত, দর্শনার্থী ও পর্যটক এসব মাজারে আসেন। তারা নগদ অর্থ ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করে থাকেন। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অনুদান জমা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এসব অর্থের ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না হওয়ায় নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
