রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে বেগুনি, পেঁয়াজু, চপসহ নানা ধরনের ভাজাপোড়া খাবার থাকেই। তবে প্রতিদিন নিয়মিত এসব খাবার খেলে শরীরে ধীরে ধীরে কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্যালরি ও লবণই এর মূল কারণ।
ভাজাপোড়া খাবারে সাধারণত ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে তা চর্বি হিসেবে জমা হয়। অনেকেই এই অতিরিক্ত ক্যালরি পোড়ানোর মতো পর্যাপ্ত শরীরচর্চা করেন না, বিশেষ করে রমজানে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে ভারী ব্যায়াম করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। ফলে দ্রুত ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ ছাড়া ভাজাপোড়া খাবারে লবণের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি থাকে। লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে। রক্তে শোষিত লবণের প্রভাবে শরীরে পানির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং কোষের মাঝের ফাঁকা স্থানে পানি জমা হতে পারে। এই পানি জমার কারণেও ওজন কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত লবণ শরীরের পানির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। রক্তনালি ও কোষের বাইরের অংশে পানি বেশি থাকলেও কোষের ভেতরে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে শরীরে পানি থাকলেও বারবার পিপাসা লাগে।
ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান না করলে দীর্ঘমেয়াদে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ভাজাপোড়া খাবার নিয়মিত খেলে অ্যাসিডিটির প্রবণতা বাড়তে পারে। খাবার খাওয়ার পর গলায় জ্বালাপোড়া বা খাবার ওপরে উঠে আসার অনুভূতি হতে পারে। দীর্ঘদিন এ অভ্যাস চলতে থাকলে পাকস্থলীতে প্রদাহের ঝুঁকিও বাড়ে।
অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হয়। এই চর্বি শুধু ত্বকের নিচেই নয়, রক্তনালির প্রাচীর, লিভার এবং পেটের ভেতরের অঙ্গগুলোর আশপাশেও জমতে পারে। এর ফলে ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং ভুঁড়িও বড় হতে পারে।
দীর্ঘদিন এমন খাদ্যাভ্যাস বজায় থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের মতো জটিল রোগের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
ইফতারে বেগুনি বা পেঁয়াজু একেবারে বাদ দিতে হবে—এমন নয়। তবে প্রতিদিন নয়, মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। সুস্থ থাকতে ইফতারে চিড়া, টক দই, ফলমূল, সবজির সালাদ এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে।
সচেতন খাদ্যাভ্যাসই পারে রমজানে সুস্থতা বজায় রাখতে।
