অজান্তেই ফুসফুসে ক্যানসার নয় তো? যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন

: অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 2026-08-04
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে ক্যানসারে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ফুসফুসের ক্যানসার। ফুসফুসের টিস্যুতে অস্বাভাবিক কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে উঠলে এ রোগের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এসব কোষ টিউমার তৈরি করতে পারে, যা শ্বাস-প্রশ্বাস ও শরীরে অক্সিজেন সরবরাহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে।

ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক রোগী প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা মনে করে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা। তবে শুরুতেই রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে গুরুগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালের থোরাসিক সার্জারি বিভাগের পরিচালক ডা. শৈবাল খন্ডেলওয়াল ফুসফুসের ক্যানসারের কয়েকটি সতর্কসংকেতের কথা তুলে ধরেছেন।

দীর্ঘদিনের কাশি

টানা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি থাকলে কিংবা পুরোনো কাশির ধরনে হঠাৎ পরিবর্তন এলে সেটিকে সাধারণ সর্দি-অ্যালার্জি বা মৌসুমি সংক্রমণ ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘস্থায়ী কাশি ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম সতর্কবার্তা হতে পারে।

কাশির সঙ্গে রক্ত

কাশি বা কফের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ রক্তের দাগ দেখা গেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন সংক্রমণ, এমনকি যক্ষ্মার কারণেও এমনটি হতে পারে। তবে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

স্বাভাবিক কাজেই শ্বাসকষ্ট

আগে যে কাজগুলো সহজেই করা যেত, সেগুলো করতে গিয়ে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট অনুভূত হলে সতর্ক হতে হবে। সিঁড়ি ভাঙা বা অল্প দূরত্ব হাঁটার সময় অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্টের পেছনে ফুসফুসে টিউমার বা ফুসফুসের চারপাশে তরল জমার মতো কারণ থাকতে পারে।

বুক বা কাঁধে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা

বুক বা কাঁধে কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যথা থাকলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে কাশি বা গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় এ ধরনের ব্যথাকে পেশিতে টান বা ঘাড়ের হাড়ের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।

অকারণে ওজন কমা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি

খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকলেও যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, ক্ষুধা কমে যায় কিংবা সবসময় দুর্বল ও ক্লান্ত লাগে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। এ ধরনের উপসর্গ বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি ক্যানসারেরও প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম বড় ঝুঁকি ধূমপান। তবে শুধু ধূমপায়ীরাই এ রোগে আক্রান্ত হন—এমন নয়। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজনের জীবনে ধূমপানের ইতিহাস নেই। পরোক্ষ ধূমপান, বায়ুদূষণ, অ্যাসবেস্টস ও সিলিকার মতো ক্ষতিকর পদার্থের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ, রেডন গ্যাস এবং কিছু জিনগত বা বংশগত কারণও এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য লো-ডোজ সিটি স্ক্রিনিংয়ের পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ন্যূনতম প্রসেসযুক্ত অস্ত্রোপচার ও রোবোটিক থোরাসিক সার্জারির মতো আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার ফলাফলও তুলনামূলকভাবে ভালো হতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন ধরে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে ফেলে না রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়।

error: Content is protected !!