ছবি: প্রতীকী
মানব সভ্যতার ইতিহাসে রোগ-বালাই সকল যুগেই ছিল এবং আছে। মহান স্রষ্টা যেমন রোগসষ্টি করেছেন তেমনি রোগের ঔষধও সৃষ্টি করেছেন। যুগে যুগে মানুষ নানারোগে নানা পদ্ধতিতে ঔষুধ ব্যবহার করেছে এবং আরোগ্য লাভ করেছে। আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। অন্য কথায় বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের যুগ। বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার ন্যায় চিকিৎসা বিজ্ঞানও এযুগে চরম উন্নতি লাভ করেছে।
বর্তমান পৃথিবীতে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির মাঝে এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদী ইত্যাদি প্রধান। অবশ্য চীন দেশে প্রাচীন কাল থেকে প্রচলিত ‘আঁকু পাংচার’ পদ্ধতিও এযুগে প্রচলিত আছে। রোগ বা অসুস্থতার বিপরীত শব্দ সুস্থতা, আরোগ্য, নিরাময় ইত্যাদি। শরীরের স্বাভাবিক অবস্থার ব্যত্যয় ঘটলেই তা অসুস্থতা। এই অস্বাভাবিকতা বা অসুস্থতা থেকে মুক্তির জন্য দরকার চিকিৎসা। একটু ঘুরিয়ে বললে বলতে হয়, শরীরের (বাহ্যিক বা আভ্যন্তরীন) অস্বাভাবিকতাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পদ্ধতির নাম চিকিৎসা। পূর্বোক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি গুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত পদ্ধতি হলো এলোপ্যাথিক। কিন্তু
বহুল প্রচলিত এই চিকিৎসা পদ্ধতি সর্বাবস্থায় আমাদের আরোগ্য করতে পারছে না। বর্তমান পৃথিবীর ভয়ানক রোগ যেমন- এইডস, ক্যান্সার বা ডায়াবেটিস ইত্যাদি ছাড়াও সাধারণ রোগের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। দু’একটা উদাহরণ দিলে পাঠক সহজে বুঝতে পারবেন।
(১) সুদীর্ঘ দশ বারো বছর ধরে আমি আঙ্গুল হাড়া রোগে ভুগছিলাম। চিকিৎসা শাস্ত্রে ইহাকে Fungul infection বা ছত্রাক জনিত ঘা বলে। দীর্ঘদিন এলোপ্যাথিক ঔষুধ সেবনের পর ডা. বিকাশ মজুমদার (যিনি পরবর্তীতে পি.জি হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন) আমাকে বললেন যে, যদি আমি কখনো পা জলে না ভিজাই তা হলে সুস্থ হতে পারি, অন্যথায় নয়। একজন মুসলমান দিনে অন্তত: পাঁচ বার ওজু করতে পা ধোন। আর গোসল তো জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলকেই করতে হয়। সুতরাং আমার ঐ ঘা সারানোর আশা ছেড়েই দিলাম। কিন্তু রোগ যাতনা আমাকে ঘরে বসে থাকতে দিল না। এবারে অন্য পদ্ধতির শরণাপন্ন হলাম। ঐতিহ্যবাহী আনোয়ারা হোমিও হল, আনোয়ারা কমপ্লেক্স-লুলু সেন্টার, দেওয়ান বাজার, গহরপুর, বালাগঞ্জ, সিলেট, মোবাঃ ০১৭১৮ ৫০৮৯৮০-এর প্রতিষ্ঠাতা আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন হোমিও চিকিৎসক আব্দুর রশীদ লুলুকে রোগের কথা বলি। লুলু হিস্ট্রি নিয়ে ঔষুধ দেন। কিছুদিন ঔষুধ খাবার পর আলহামদুলিল্লাহ আমি সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করি এবং বিশ-বাইশ বছর যাবৎ সুস্থ আছি।
(২) আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগের কথা। আমার এক দূর সম্পর্কীয় আত্মীয় আমাকে কথাচ্ছলে বলেন যে, তার ছেলের পায়ের তলা দিয়ে বাঁশের একটা কঞ্চি ঢুকে গেছে। তিনি ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবেন। তার কথায় বুঝলাম, কাঁটা-ছেঁড়া না করে এ কাঁটা বের করা যাবে না। আমি তাকে বললাম যে, এখানে একজন হোমিও ডাক্তার আছেন আপনি ওনার কাছ থেকে কিছু ঔষধ নিয়ে যান। ঔষধে উপকার না হলে বিকল্প চিন্তা করবেন। তিনি নিজে এসমস্ত কাঁটা ছেঁড়া ভয় পান এবং অন্য কোথাও যেতে হলে বেশ টাকা পয়সার দরকার ইত্যাদি ভেবে তিনি আমার প্রস্তাবে রাজী হন। তিন দিন পর এসে আমাকে জানালেন যে, ঐ কাটাটি বেরিয়ে এসেছে এবং ছেলে এখন সুস্থ।
(৩) আমার জনৈক বিলাত প্রবাসী বন্ধুর গলায় মাছের কাঁটা বিঁধে। অনেক চেষ্টা তদবীরের পরও যখন কাঁটাটি নামল না তখন সে এত ভীত হল যে, বিলাত প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক এমনি মুহুর্তে এক ডোজ হোমিও ঔষুধ তার কাটাঁ বের করে মনে আনে স্বস্তি এবং আরো কিছুদিন দেশে অবস্থানের আশ্বাস দেয়।
(৪) বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সার একটি দুরারোগ্য ব্যাধি। ক্যান্সার হলেই মৃত্যু অবধারিত। এ দুরারোগ্য ব্যাধিকেও জয় করতে অনেক ক্ষেত্রে সক্ষম হয়েছে হোমিওপ্যাথি। পত্রিকান্তরে জানা যায়, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় অনেক রোগী এ মরণব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছেন। পক্ষান্তরে অন্যপ্যাথি অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর দিন ক্ষণ ঠিক করে দিয়ে রোগ যন্ত্রণার পাশাপাশি স্বজনদের মনোপীড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
পূর্বেই বলেছি রোগ নিরাময়ে সঠিক চিকিৎসা দরকার। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে একটি বিষয় সর্বাধিক বিবেচ্য এবং তা হলো চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর জন্য রোগীর সক্ষমতা। বর্তমানে পত্র-পত্রিকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, অনেক জটিল রোগী লাখ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সক্ষম না হওয়ায় হৃদয়বানদের কাছে সাহায্য প্রার্থী হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আর্থিক কারণে চিকিৎসার অভাবে রোগী মারা যান। অত্যাধিক ব্যয়বহুল চিকিৎসাই এর জন্য দায়ী। তাই সার্বিক বিবেচনায় স্বপ্লব্যায়ী হোমিওপ্যাথিকে আমি ভালবাসি।
লেখক: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ধনপুর, মাদার বাজার, ওসমানী নগর, সিলেট। মোবাঃ ০১৭১৬ ৪৩০১৩৪
