ছবি: সংগৃহীত
রুম সংকটে ভোগান্তিতে পর্যটক, সুযোগ বুঝে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ চালকদের বিরুদ্ধে
শারদীয় দুর্গাপূজা ও টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেট। নগরীর চা-বাগান থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিদিন ভিড় করছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। তবে পর্যটকের বাড়তি চাপে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে দেখা দিয়েছে কক্ষসংকট। থাকার জায়গা না পেয়ে অনেক পর্যটককে স্বজনদের বাসায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে রাত কাটাচ্ছেন হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারে।
একদিকে আবাসনসংকট, অন্যদিকে যানবাহনের বাড়তি ভাড়া—সব মিলিয়ে ছুটিতে সিলেট ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটককে পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। পর্যটকদের বাড়তি চাপের সুযোগ নিয়ে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের চালকেরা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া দাবি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মালনীছড়া, লাক্কাতুরা ও তারাপুর চা-বাগানসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা চা-বাগানের সবুজ পরিবেশ, টিলার সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করছেন। অনেকেই ছবি ও সেলফি তুলে ছুটির মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষগুলোর অধিকাংশই আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ফলে শেষ মুহূর্তে সিলেটে আসা পর্যটকদের নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে হোটেল থেকে হোটেলে ঘুরতে হচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশের হোটেলগুলোতে কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
জিন্দাবাজার, তালতলা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার ও হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার গেট এলাকার হোটেলগুলোতেও নতুন করে কক্ষ পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে। আগে থেকে বুকিং দেওয়া পর্যটকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ালেও পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া আসা অনেকেই আবাসনসংকটে বিপাকে পড়েছেন।
সিলেট হোটেল-মোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমাত নূরী জুয়েল জানান, তাঁদের হোটেলগুলোর কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। বর্তমানে খালি কক্ষ না থাকায় নতুন অতিথিদের আবাসনের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কক্ষ না পেয়ে অনেক পর্যটক অসুবিধায় পড়ছেন, কিন্তু এ পরিস্থিতিতে তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না।
পর্যটকদের চাপ বাড়ায় নগরী ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যাতায়াতের জন্য প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের চাহিদাও বেড়েছে। এ সুযোগে কোনো কোনো চালক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া চাইছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবাসনের সংকটের পাশাপাশি যাতায়াতে অতিরিক্ত ব্যয় পর্যটকদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পেয়েছেন। এই দীর্ঘ ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই পরিবার নিয়ে সিলেট ভ্রমণে এসেছেন।
ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ মোবাইল পেট্রোল টিম দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহলও অব্যাহত রয়েছে।
এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. আফজাল হোসেন বলেন, পূজার ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করছে। পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি অন্যান্য এলাকাতেও নিয়মিত টহল চলছে। কোনো প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য তিনি পর্যটকদের অনুরোধ জানিয়েছেন।
ছুটির বাকি সময়েও সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আবাসনসংকট ও পরিবহনভাড়া নিয়ে ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন পর্যটকেরা।
