পেছন ফিরে তাকাই সাহিত্যাঙ্গন ও সাহিত্যকর্মীদের মাঝে একদিন

: আব্দুর রশীদ লুলু
প্রকাশ: 2026-10-16
ছবি : প্রতীকী

২৪ মাঘ ১৪০০/ ০৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪, রোববার প্রায় বারোটা। সিলেট শহরস্থ সাপ্তাহিক ‘বাংলার আলো’ অফিসে পা রাখতেই মনটা আশ্চর্য্য রকম ভালো হয়ে যায়। সুন্দর সকালটা প্রিয়জনের সাথে মনোমালিন্যে মাটি হওয়ার পর মনের খুতখুত ভাবটা সহসা দূর হয়ে যায়। অফিসে একা অনুজ প্রতীম কাজী হেলাল-‘বাংলার আলো’র নির্বাহী সম্পাদক, তরুণ কবিতাকর্মী, আমার বিবেচনায় ছড়া-কবিতায় যার হাত শক্ত-সাবলীল।

হেলাল হাসি মুখে অভ্যর্থনা জানালো। বসলাম অনেকক্ষণ। দ’ুজন মিলে প্রুফ দেখলাম ‘বাংলার আলো’য় প্রকাশিতব্য আমার গল্প ‘দুরন্ত যৌবন সংযত প্রেম’- এর। কথা হলো অনেক, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পর্কে। আসছে ২৬ শে মার্চ (১৯৯৪)-এ প্রকাশিতব্য বিশেষ গল্প সংকলন ‘স্মৃতির আকাশ’ সম্পর্কেও।
কথার ফাঁকে ফাঁকে মনটা আমার আক্ষেপে ভরে ওঠে- ইশ্! কতটা দিন লেখালেখি থেকে দূরে। এই চার/পাঁচ বছরে পাঠক ও সাহিত্যকর্মীদের সাথে আমার কেমন একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়ে থেকে বার বার আমার মনে হয়েছে- ‘দিগন্তে দাঁড়িয়ে / দু’বাহু বাড়িয়ে / কে যেন আমায় / ডেকে নিতে চায় ….।’
ওখানে বসেই হেলালের সৌজন্যে টেলিফোনে আলাপ হলো জনৈক সাহিত্য ও ইন্সুরেন্সকর্মীর সাথে। যার সাথে যৌথ সম্পাদনায় “স্মৃতির আকাশ”-এর কাজ করার কথা। আমন্ত্রণ জানালেন তার ইন্সুরেন্স কোম্পানীর অফিসে। এক পর্যায়ে ওঠে বাইরে চা খেয়ে বিদায় নিলাম কাজী হেলালের কাছ থেকে। চলতে চলতে আমি হারিয়ে যাই স্মৃতির অতলে- সেই ছিয়াশী-সাতাশীর রঙ্গীন দিনগুলোতে। যখন আমি দু’হাতে লিখেছি। লিখেছি গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ছড়া, আলোচনা-সমালোচনা …….।
অফিসে বেজায় কাজ। তারপরও ওই সাহিত্য ও ইন্সুরেন্সকর্মী কিছু সময় দিলেন। চা খাওয়ালেন। “স্মৃতির আকাশ”-এর সাথে সাথে আমাদের নিজেদের সাহিত্য কর্ম সম্পর্কেও ঠুকঠাক কথা হলো। ওঠার পথে তাদের কন্ট্রোলার সাহেবের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন, চমৎকার বিনয়ী মানুষ। যদিও লক্ষ্য করলাম, এই সামান্য সৌজন্য বিনিময়ের সময়টাতেও তিনি তার পেশাগত দায়িত্বের কথা ভুলেননি।
শীতের দিন বেলা দ্রুত গড়িয়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি করে ছুটলাম চৌধুরী প্রিন্টিং- ‘সুর’ অফিসে। আগে দেখা করতে হবে ষাটের দশকের কথাশিল্পী অগ্রজ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদের সাথে। রিক্সায় বসে বার বার ভেসে ওঠে সুপ্রিয়-শ্রদ্ধেয় হামিদ ভাই’র স্মৃতি। যে হামিদ ভাইকে আমি দীর্ঘদিন দূরে থেকে কাছে থেকে অনেক দেখেছি। যে হামিদ ভাই’র সাক্ষাৎকার (‘সুর’-এ) নিয়েছি। যে হামিদ ভাই সম্পর্কে দৈনিক মিল্লাত (ঢাকা), দৈনিক সিলেটের ডাক ও সাপ্তাহিক সুর-এ লিখেছি।
চৌধুরী প্রিন্টিং-এ ওহীদুজ্জামান চৌধুরীর সাথে কুশল বিনিময় হলো। এখান থেকে প্রকাশিত হতো সুপ্রিয় ‘সুর’। এক সময় যে ‘সুর’ আমাকে অফার দিয়েছে নিয়মিত লিখতে, নিজস্ব প্রতিনিধি হতে। যে ‘সুর’-এ আমার অসংখ্য লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যাঙ্গনে আমাকে পরিচিতির ব্যাপ্তি দান করেছে। উল্লেখ্য, তখন আমি মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ নামে লিখতাম।
ওহীদ ভাই নিজে লেখালেখি না করলেও সাহিত্য ও সাহিত্যকর্মীদের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। ‘সুর’ সম্পাদক কবি সিরাজ চৌধুরী দেশের বাইরে। হামিদ ভাই’র সাথে এখানে দেখা হওয়ার কথা। তিনি রেডিও-তে আছেন, এখনও ফেরেননি।

—————————————————————————————————————————————————————————————————
লেখক: সম্পাদক- আনোয়ারা (শিকড়সন্ধানী প্রকাশনা), আনোয়ারা হোমিও হল, আনোয়ারা কমপ্লেক্স-লুলু সেন্টার, দেওয়ান বাজার, গহরপুর, বালাগঞ্জ, সিলেট। মোবাইল- ০১৭২৮-০৭৩৮৫২

error: Content is protected !!