ছবি সংগৃহীত
আইপিএল নিলামে প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি সাকিব আল হাসান। ফলে আপাতত ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার ফেরাও হচ্ছে না। তবে প্রত্যাশিতভাবেই চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের আরও ছয় ক্রিকেটারও রয়েছেন এই তালিকায়, যাদের মধ্যে রয়েছে কিছু চমকপ্রদ নাম।
মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই হয়েছে তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, নাহিদ রানা, রকিবুল হাসান এবং শরিফুল ইসলামের।
তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক রকিবুল হাসান। ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই বাঁহাতি স্পিনার এখনো জাতীয় দলের হয়ে কোনো ম্যাচ খেলেননি। যদিও ২০২৩ এশিয়ান গেমসে তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি, সেখানেও জাতীয় দল অংশ নেয়নি।
যুব ক্রিকেটের পর থেকে দেশের ঘরোয়া আসরগুলোতে নিয়মিত খেলছেন রকিবুল। ইমার্জিং দল, হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াড এবং বাংলাদেশ ‘এ’ দলেও তার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। যদিও বিপিএলে খুব বেশি উজ্জ্বল করতে পারেননি তিনি—২২ ম্যাচে তার উইকেট ১৬টি। সর্বশেষ বিপিএলে ৯ ম্যাচ খেলে পেয়েছেন মাত্র ৫ উইকেট, যেখানে ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন সাড়ে আটেরও বেশি।
সব মিলিয়ে তিনি ৬৯টি টি-টোয়েন্টিতে ৬৯ উইকেট নিয়েছেন, ওভারপ্রতি গড় রান ৬.৯০। তবে দেশের বাইরে কোনো লিগে খেলার অভিজ্ঞতা নেই তার।
আইপিএল নিলামের প্রাথমিক তালিকায় যে কেউ নাম লেখাতে পারেন। এরপর দলগুলোর আগ্রহ অনুযায়ী তৈরি হয় চূড়ান্ত তালিকা। এবার ১,৩৯০ জন ক্রিকেটার প্রাথমিক নিবন্ধন করেছিলেন। সেখান থেকে চূড়ান্ত তালিকা সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫০ জনে। তাই রকিবুলের এই তালিকায় জায়গা পাওয়া সত্যিই কৌতূহলোদ্দীপক।
৩৫০ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ২৪০ জন ভারতীয় এবং ১১০ জন বিদেশি। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৭ জন খেলোয়াড় দলে সুযোগ পাবেন। বিদেশি খেলোয়াড়ের জন্য শূন্যপদ রয়েছে ৩১টি।
ভারতের ২৪০ ক্রিকেটারের মধ্যে ২২৪ জনই আনক্যাপড। বিদেশিদের মধ্যে আনক্যাপড ক্রিকেটার রয়েছেন মাত্র ১৪ জন, যার মধ্যে আছেন রকিবুলও। জাতীয় দলে না খেলা, পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক খেলা থেকে দূরে থাকা কিংবা পাঁচ বছর কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের আনক্যাপড ধরা হয়।
মুস্তাফিজ আছেন সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্যের ক্যাটাগরিতে—২ কোটি রুপি। এই বিভাগে মোট খেলোয়াড় ৪০ জন।
আইপিএলে এখন পর্যন্ত আট মৌসুম খেলেছেন মুস্তাফিজ। গত আসরের আগে মেগা নিলামে দল না পেলেও জেইক ফ্রেজার-ম্যাকগার্কের বদলি হিসেবে পরে তাকে দলে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। তিন ম্যাচে তিনি নিয়েছিলেন চার উইকেট। আগের মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ৯ ম্যাচে উইকেট ছিল ১৪টি। সব মিলিয়ে আইপিএলে ৬০ ম্যাচে তার উইকেটসংখ্যা ৬৫, ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৮.১৩।
৩০ বছর বয়সী এই পেসার বর্তমানে খেলছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টিতে এবং প্রথম দুই ম্যাচেই করেছেন চমৎকার বোলিং। জাতীয় দল ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিলামে তার প্রতি দলগুলোর আগ্রহ থাকারই কথা। তবে তিনি আছেন ফাস্ট বোলারদের দ্বিতীয় সেটে—প্রথম সেটে থাকলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি থাকত।
৭৫ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্যের বিভাগে আছেন তাসকিন, রিশাদ, তানজিম, শরিফুল ও নাহিদ। স্পিনারদের দ্বিতীয় সেটে রাখা হয়েছে বিগ ব্যাশে খেলতে যাওয়া রিশাদকে। ফাস্ট বোলারদের তৃতীয় সেটে তাসকিন, চতুর্থ সেটে তানজিম ও নাহিদ এবং পঞ্চম সেটে থাকবেন শরিফুল। আনক্যাপড স্পিনারদের চতুর্থ সেটে রকিবুলের ভিত্তিমূল্য ৩০ লাখ রুপি।
মুস্তাফিজ ও রিশাদ ছাড়া অন্যদের দল পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। বাকি ক্রিকেটারদের নাম নিলামে ওঠার আগেই হয়তো দলগুলোর কোটা পূর্ণ হয়ে যাবে।
এবারের আইপিএল নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ১৬ ডিসেম্বর, আবু ধাবিতে।
