নারী ফুটবলে উজ্জ্বল সাফল্য, অবহেলার ছায়া তবুও ঘোচেনি

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৫-০৭-২৬
ছবি; সংগৃহীত

একই দেশের পতাকা, একই লড়াই মাঠে। তবু বাংলাদেশের নারী ও পুরুষ ফুটবল দলের পথচলা যেন একেবারে বিপরীত। যেখানে পুরুষ দল সুযোগ-সুবিধার ছড়াছড়িতে এগিয়ে, সেখানে সীমিত সম্ভাবনা আর অবহেলার মধ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে মেয়েরা।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ নারী দল। তুলনায় ১৯৭৩ সাল থেকে খেলা শুরু করা পুরুষ দলের সাফল্য অনেকটাই সীমিত। ফিফা স্বীকৃত ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত নারী দল ৭০টি ম্যাচ খেলে জিতেছে ২৮টি (৪০% জয়)। পুরুষ দল একই সময়ে ১২৭টি ম্যাচে জিতেছে ৩৫টি (জয়ের হার মাত্র ২৭%)।

পুরুষ ফুটবলের সবচেয়ে বড় অর্জন ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। এরপর ২০২৩ সালে দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবার সাফের সেমিফাইনালে ওঠে দলটি। অন্যদিকে, নারী দল ২০২২ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি সাফ শিরোপা ঘরে তোলে। সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০২৫ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পাওয়া—যা বিশ্বকাপ খেলার পথও খুলে দিতে পারে।

সাফল্য থাকলেও নারী ফুটবলের কাঠামোগত দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো। নেই নির্দিষ্ট বর্ষপঞ্জি, নেই নিয়মিত ঘরোয়া লিগ। সর্বশেষ নারী লিগ হয়েছে ২০২4 সালের মে মাসে, এরপর ১৩ মাসেও আর কোনো আসর হয়নি। অনেক জাতীয় দল তারকাও ক্লাব না পাওয়ার শঙ্কায় ছিলেন।
প্রিমিয়ার লিগে ছেলেদের জন্য রয়েছে পেশাদার কাঠামো, দ্বিতীয় স্তর, বর্ষপঞ্জি, এমনকি ফিরছে সুপার কাপের মতো আয়োজন। কিন্তু মেয়েদের জন্য শুধুই অনিশ্চয়তা।

দেশের ফুটবলে সাফল্যের গল্প এখন মেয়েদের ঘিরেই। কিন্তু কাঠামোগত বৈষম্য দূর না হলে এই অর্জন ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংক্ষেপে মূল তথ্য:

নারী ফুটবলের আন্তর্জাতিক যাত্রা: ২০১০ সাল

২০১০–২০২৫: নারী দলের জয় ২৮টি (৪০%), পুরুষদের ৩৫টি (২৭%)

নারী দল: ২০২২ ও ২০২৪ সাফ চ্যাম্পিয়ন

২০২৫: প্রথমবারের মতো এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে

নারী ফুটবলে নেই বর্ষপঞ্জি, নেই নিয়মিত লিগ

পুরুষ ফুটবলে পেশাদার লিগ, সুপার কাপসহ ৫টি ঘরোয়া আসর

error: Content is protected !!