সুগার নিয়ন্ত্রণে রসুন কতটা কার্যকর?

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৪
ছবি : সংগৃহীত

রসুন শুধু রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায় না, এটি নানা স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যও পরিচিত। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং বিভিন্ন ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করতে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও রসুনের সম্ভাব্য ইতিবাচক ভূমিকার কথা উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে পরিমিত পরিমাণে কাঁচা রসুন খেলে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুটা সহায়তা মিলতে পারে। এর পেছনে কাজ করে রসুনের গুরুত্বপূর্ণ সালফার যৌগ অ্যালিসিন, যা ইনসুলিনের নিঃসরণ ও কার্যকারিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একটি বিষয় জানা জরুরি—আস্ত রসুনে সরাসরি অ্যালিসিন থাকে না। এতে থাকে অ্যালিন নামের একটি উপাদান। রসুন থেঁতো করা বা কুচি করার পর অ্যালিনেজ নামের একটি উৎসেচক সক্রিয় হয়ে অ্যালিনকে অ্যালিসিনে রূপান্তরিত করে। গবেষকদের মতে, রসুনের অধিকাংশ স্বাস্থ্য উপকারিতার সঙ্গে এই অ্যালিসিনের সম্পর্ক রয়েছে।

যেভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে

থেঁতো করে কিছুক্ষণ রাখুন:
রসুন কুচি বা থেঁতো করার পর অন্তত ৫ মিনিট রেখে দিলে অ্যালিসিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যায়।

রান্নায় ব্যবহারের আগে প্রস্তুতি নিন:
কাঁচা রসুন খেতে অসুবিধা হলে রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রান্নার আগে রসুন কেটে বা থেঁতো করে কয়েক মিনিট বাতাসে রেখে দিলে এর উপকারী উপাদান তৈরি হওয়ার সুযোগ বাড়ে।

অতিরিক্ত তাপে রান্না নয়:
দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে রসুনের কিছু উপকারী উপাদান নষ্ট হতে পারে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তাপে রান্না না করাই ভালো।

দিনে কতটুকু রসুন যথেষ্ট?

সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ১ থেকে ২ কোয়া রসুন সাধারণত যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। অতিরিক্ত রসুন খেলে অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা হজমের অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করছেন বা শিগগিরই অস্ত্রোপচার করাবেন, তাদের খাদ্যতালিকায় রসুনের পরিমাণ বাড়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, রসুন ডায়াবেটিসের বিকল্প চিকিৎসা নয়। এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

error: Content is protected !!