ছবি : সংগৃহীত
ক্যান্সার শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের ক্যান্সার সমান জটিল নয়। অনেক ক্যান্সারই প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। থাইরয়েড ক্যান্সার তার অন্যতম উদাহরণ।
ভারতের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ ডা. কার্তিক কৃষ্ণনের মতে, থাইরয়েড ক্যান্সার শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার ফল ভালো হয় এবং রোগীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েড ক্যান্সারের অনেক ধরন তুলনামূলক ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিক অবস্থায় শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম থাকে। ফলে সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে নিরাময়ের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
তবে সব ধরনের থাইরয়েড ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য এক নয়। কিছু ধরন সহজে নিয়ন্ত্রণে এলেও কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা অপেক্ষাকৃত জটিল হতে পারে। তাই সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরয়েড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ শুরুতেই দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, গলার ফোলা বা কণ্ঠস্বরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে থাকলে তা সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো পরীক্ষা করালে রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন, অবস্থান এবং এটি শরীরের কতটা অংশে ছড়িয়ে পড়েছে তার ওপর। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারই প্রধান চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিও ব্যবহার করা হতে পারে।
আধুনিক রোগনির্ণয় প্রযুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ফলে বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়া মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং সময়মতো রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ রোগী দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই গলায় অস্বাভাবিক ফোলা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা খাবার গিলতে সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
