শিরোনাম

বাংলাদেশকে শুল্কে ছাড়, পাল্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত: বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোরালো ছাড়পত্র

: অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০২৫-০৮-০৪

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মেধাসম্পদ, আমদানি, সেবা খাত, পরিবেশ এবং শ্রম অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একাধিক ছাড় দিয়েছে। এই ছাড়ের প্রেক্ষিতে পাল্টা হিসেবে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র জানায়, চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কর্তৃক প্রদত্ত অনুমোদনকে স্বীকৃতি দেবে। পাশাপাশি, এফডিএর ইলেকট্রনিক সনদই যথেষ্ট হবে—বাংলাদেশ হার্ড কপি, মূল কপি, সত্যায়িত কিংবা হাতে লেখা কোনো কপি চাইবে না। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মেডিকেল ডিভাইস রেগুলেটরস ফোরামের সদস্যপদ লাভের জন্য আবেদন করবে বাংলাদেশ।

দুগ্ধজাত পণ্য ও মাংসজাত পণ্যের আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেবে বাংলাদেশ। এতে গরু, ছাগল ও ভেড়ার দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার পথ সুগম হবে। আবার কোনো মার্কিন পণ্যে সমস্যা দেখা দিলে বাংলাদেশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা তৃতীয় কোনো দেশের ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও অনুমোদন বিবেচনায় নেবে।

বার্ড ফ্লুর মতো সংক্রামক রোগ রোধে বিশ্ব পশু স্বাস্থ্য সংস্থার বিধান অমান্য করে কোনো বিধান আরোপ বা বজায় রাখবে না বাংলাদেশ—এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে, যুক্তরাষ্ট্র উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত পণ্যের বাংলাদেশে বাজার প্রবেশাধিকার চেয়ে আবেদন করলে, তা ১৮ মাসের মধ্যে অনুমোদন করতে হবে বাংলাদেশকে।

এছাড়া, এখনো অনুমোদন না করা হলে বাংলাদেশকে কয়েকটি আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: বার্ন কনভেনশন, ব্রাসেলস কনভেনশন, বুদাপেস্ট চুক্তি, হেগ চুক্তি, মাদ্রিদ প্রটোকল, মারাকেশ চুক্তি, প্যারিস কনভেনশন, পেটেন্ট কো-অপারেশন চুক্তি, সিঙ্গাপুর চুক্তি, ইউপিওভি ১৯৯১ (নতুন জাতের উদ্ভিদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন), বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থার কপিরাইট চুক্তি এবং ডব্লিউআইপিও পারফরম্যান্স ও ফোনোগ্রাম চুক্তি।

পরিবেশ আইনের কঠোর প্রয়োগ, দুর্নীতিবিরোধী পরিকল্পনা ও বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনলাইনে প্রকাশের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মৎস্য ভর্তুকি সংক্রান্ত চুক্তি মেনে চলবে এবং অবৈধ মাছ ধরায় কোনো ভর্তুকি দেবে না। সমুদ্রজাত মাছ সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ।

সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নীতিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের মতামত বিবেচনায় নেওয়া এবং ২০২১ সালের সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি (ওভার দ্য টপ) আইনের সংশোধন বা বাতিলের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।

এছাড়া, রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বিমা করপোরেশনের সঙ্গে বেসরকারি বিমা কোম্পানির ৫০ শতাংশ পুনর্বিমার বাধ্যবাধকতা বাতিলের অনুরোধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, “পুনর্বিমা বিষয়ে আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

error: Content is protected !!