ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার আসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে এই অবৈধ বেটিং সংস্কৃতি। বিশেষ করে তরুণ, মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে এ প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অতীতে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে কিছু নির্দিষ্ট লোকালয়ে সন্ধ্যার পর আসর বসতো। তবে এখন ডিজিটাল যুগের সুবিধা—স্মার্টফোন ও সহজলভ্য ইন্টারনেট—ব্যবহার করে যেকেউ মুহূর্তেই প্রবেশ করছে অনলাইন বেটিংয়ের জগতে।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এই বিপজ্জনক আসক্তির শিকার হচ্ছে। তারা সহজে টাকা জেতার আশায় মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন বেটিংয়ে অংশ নিচ্ছে। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাচ্ছে, একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পারিবারিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও।
একজন মা জানান, আমার ছেলে প্রায়ই মোবাইলে গেমস বা রিচার্জের নাম করে টাকা চাইতো। সন্দেহ হলে তাকে কিছুটা অনুসরণ করি। পরে জেনেছি, সে প্রায় এক লাখ টাকা অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ফেলেছে। এখন সে আসক্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং করাতে হচ্ছে।
অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। তবুও এটির শেকড় অনেক গভীরে পৌঁছে যাওয়ায় পুরোপুরি দমন সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের মধ্যে দ্রুত আর্থিক লাভের বাসনা, আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব এবং অবসরে গঠনমূলক কাজের ঘাটতি অনলাইন জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দরকার দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম, পরিবারভিত্তিক তদারকি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও যুব সমাজের জন্য গঠনমূলক বিকল্প কর্মসূচির প্রসার।
বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া এখন শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি এক ভয়ংকর ডিজিটাল অপরাধ হিসেবেও সামনে চলে এসেছে। তাই এর বিরুদ্ধে প্রয়োজন সম্মিলিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ।
