শিরোনাম

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে বিধিনিষেধ

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০২-০১
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের লেনদেনে সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে এক হাজার টাকা।

একই সঙ্গে ব্যাংকিং অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা স্থানান্তর সেবা বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে অর্থের অপব্যবহার রোধে ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনে লেনদেনের সীমা কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের সময় ভোটার প্রভাবিত করতে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাহিদার আলোকে অর্থ লেনদেন সীমিত করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বর্তমানে একজন মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। এক দিনে সর্বোচ্চ ৫০ বার এবং মাসে ১০০ বার লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সময়ে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন এবং মোট টাকার পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। এই সীমা ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বর্তমানে ব্যাংকিং অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি গ্রাহকেরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা তিন লাখ টাকা।

তবে নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ নির্বাচনকালীন সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা স্থানান্তর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।

এদিকে ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের ওপর তদারকি জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হিসাবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিএফআইইউতে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) জমা দিতে হবে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সময়মতো সিটিআর দাখিল না করা বা ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিটিআরে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রথমে ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যর্থ হলে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

error: Content is protected !!