ছুটিতেও কমেনি নিত্যপণ্যের দাম, চড়া বাজারে চাপে ক্রেতা

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2026-10-22
ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন অনেক বাসিন্দা। এতে বিভিন্ন বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমেছে, কমেছে বেচাকেনাও। তবে ক্রেতার সংখ্যা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। চাল, ডাল, আটা, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু পণ্য আগের সপ্তাহের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। মাছ-মাংসের বাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও কলোনি ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ছুটির সময়ে বাজার তদারকিতে শিথিলতার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম কমাচ্ছেন না। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে। কিন্তু পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ আগের মতোই রয়েছে। চাল, তেল ও আটার মতো পণ্যের মিল পর্যায়ের সরবরাহমূল্য না কমায় খুচরা বাজারেও দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীর বাজারে চালের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। মানভেদে বিআর-২৮ ও পাইজাম চাল প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু বা মিনিকেট চালের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। চায়না ইরি ও গুটি স্বর্ণা জাতের মোটা চাল কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। অন্যদিকে নাজিরশাইল চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এ জাতের চাল প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আটার দামেও তেমন পরিবর্তন নেই। খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে আটার দাম গড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে।

ময়দার দামও ক্রেতাদের বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি কেজি খোলা ময়দা প্রায় ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের বাজারেও স্বস্তি নেই। ভালো মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ও রসুনের দামেও গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের বাড়তি দামেই এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

ডালের বাজারেও ভিন্নতা নেই। মোটা মসুর ডাল প্রতি কেজি ৯৫ থেকে ১১০ টাকা এবং ভালো মানের মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলার দাম প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

ছোলার পাশাপাশি অ্যাংকর ডালের দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে দাম পড়ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এ ডালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কম ছিল। টিসিবির হিসাবে, এক মাসের ব্যবধানে ছোলার দাম বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে গরুর মাংসের দাম নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে রয়েছে। এলাকাভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে খরচ হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা।

এদিকে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

নিত্যপণ্যের অন্যান্য খাতের তুলনায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থা দেখা গেছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শসহ বেশির ভাগ সবজি প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুনের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং উচ্ছে ও ঝিঙা ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।

তবে বাজারে নতুন আসা কয়েক ধরনের শীতকালীন সবজি এখনো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি শিম কিনতে ক্রেতাদের ১২০ থেকে ১৪০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমলেও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় কমছে না। বিশেষ করে চাল, ডাল, আটা ও মাংসের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

অর্থনীতি এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
error: Content is protected !!