ছবি: সংগৃহীত
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত ১৩ বছরের মধ্যে এটি বোর্ডটির সর্বনিম্ন পাসের হার। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার মোট ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ এই ফল অর্জন করেছে।
শনিবার সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সিলেট বোর্ডের অধীনে মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ১৭২ জন। অর্থাৎ এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই অবনতি হয়েছে।
২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ০.৯৬ শতাংশ পয়েন্ট এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩৯৮ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকেও ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন।
তিনি জানান, এবার সিলেট বিভাগের ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জের একটি এবং সুনামগঞ্জের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল ভালো করার লক্ষ্যে আগামী দিনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বোর্ডের বিগত বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৭১ দশমিক ৬২, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৪০, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৮০ এবং ২০২০ সালে পাসের হার ছিল শতভাগ।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ৭, ২০১৭ সালে ৭২, ২০১৬ সালে ৬৮ দশমিক ৫৯, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ এবং ২০১৪ সালে ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে সরাসরি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় পূর্ববর্তী বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের অটো পাস দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে পরীক্ষা নেওয়া এবং জেএসসি-এসএসসির ফলের সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করায় পাসের হার তুলনামূলক বেশি ছিল।
