ইউপি নির্বাচনে ৪২ প্রতীক নির্ধারণ, বাড়ল জামানত ও ব্যয়সীমা

: অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 2026-09-24
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রার্থীদের জন্য মোট ৪২টি প্রতীক নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এবার ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্দলীয় প্রতীকে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর সংশোধিত বিধিমালায় সই করে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদে ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি প্রতীক রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের অর্থ ও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানো হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জামানত ফেরতের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এর আগে মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট পেলেই জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল।

এবার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদেও দলীয় প্রতীক থাকছে না। সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের পর নতুন বিধিমালা থেকে দলীয় প্রতীক বাদ দিয়েছে ইসি। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট অনুষ্ঠিত হতো।

চেয়ারম্যান পদে ২০ প্রতীক

চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকগুলো হলো—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।

সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০ প্রতীক

সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য রাখা হয়েছে—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।

সাধারণ সদস্য পদে ১২ প্রতীক

সাধারণ সদস্য পদের প্রতীকগুলো হলো—উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।

সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে গুরুতরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তও নিতে পারবে ইসি।

এ ছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা একই সঙ্গে উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমাও দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ব্যয়ের সুযোগ থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমা আগের মতোই ২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

error: Content is protected !!