সকালে না দুপুরে, কখন পেট ভরে খাওয়া ভালো?

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2026-08-15
ছবি: সংগৃহীত

গরমের সময় খাবারদাবার নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা ধরনের প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে সকালে নাকি দুপুরে তুলনামূলক বেশি খাবার খাওয়া ভালো—এ নিয়ে দ্বিধায় থাকেন অনেকে। পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু গরমের সময় নয়, সারা বছরই দিনের শুরুতে পুষ্টিকর ও পরিমাণে ভালো খাবার খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী।

কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শ্রাবণী মুখার্জির পরামর্শ অনুযায়ী, দিনের খাবারের ধরন ও পরিমাণ ঠিক রাখার পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।

গরমে একবারে বেশি খাবার নয়

গরমের সময় একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খেলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। হজমের সমস্যার পাশাপাশি গ্যাস ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই একবারে অনেক খাবার না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

দিনের শুরুতেই তুলনামূলক ভারী খাবার

পুষ্টিবিদ শ্রাবণী মুখার্জির মতে, দিনের প্রথম খাবার অর্থাৎ সকালের নাশতা তুলনামূলক পুষ্টিকর ও পরিমাণে ভালো হওয়া উচিত। দুপুরের খাবার সকালের তুলনায় কিছুটা হালকা রাখা যেতে পারে। আর রাতে অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত খাবার খাওয়াই ভালো।

এভাবে খাবারের সময় ও পরিমাণের মধ্যে ভারসাম্য রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও শক্তি পেতে পারে।

ওজন কমাতে নাশতা বাদ দেওয়া ঠিক নয়

অনেকে ওজন কমানোর জন্য সকালের নাশতা এড়িয়ে চলেন। তবে এতে শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। দিনের শুরুতে পুষ্টিকর খাবার শরীরকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে।

নিয়মিত নাশতা না করলে বিপাকক্রিয়া বা মেটাবোলিজমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলেও নাশতা একেবারে বাদ না দিয়ে পরিমাণ ও খাবারের ধরন ঠিক রাখা জরুরি।

খাবারে থাকতে হবে পুষ্টির ভারসাম্য

দিনের প্রধান তিন বেলার খাবারে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজের সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

প্রোটিনের জন্য ডিম, মাছ, মাংস ও সয়াবিন খাওয়া যেতে পারে। কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসেবে ভাত, রুটি, ওটস, ডালিয়া ও বিভিন্ন শস্যজাতীয় খাবার রাখা যায়। পাশাপাশি শাকসবজি ও ফল থেকে পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ।

গরমে পানি পান জরুরি

উচ্চ তাপমাত্রায় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বেশি পানি বের হয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

সাধারণভাবে দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কিডনিসহ কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে নিজের ইচ্ছায় পানির পরিমাণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করা উচিত।

সব মিলিয়ে, গরমে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পরিবর্তে দিনের শুরুতে পুষ্টিকর খাবার, দুপুরে পরিমিত খাবার এবং রাতে তুলনামূলক হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ভালো হতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও সুষম খাবার নিশ্চিত করাও জরুরি।

error: Content is protected !!