ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। সবজি থেকে শুরু করে মাছ, ডিম ও বিভিন্ন মুদি পণ্যের দামে দেখা দিয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। এতে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনে আগের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ফলে নতুন করে আসা পণ্যের দামের সঙ্গে বাড়তি পরিবহন ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোথাও কোথাও অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে।
বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যাচ্ছে সবজির দামে। গতকালের বাজারে রাজধানীর মিরপুর-১১, মুসলিম ও কালশী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং শিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা ৮০, শসা ৫০ থেকে ৬০, ঢ্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৭০, কচুমুখি ৬০ থেকে ৭০ এবং কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে টমেটোর দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।
তবে লাউ ও পেঁপের দামে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। মানভেদে প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা।
মাছের বাজারেও কমেনি বাড়তি দামের চাপ। ভরা মৌসুমেও ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে আকারভেদে আরও বেশি দামে। রুই ও কাতলা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি হলেও বড় আকারের মাছের দাম আরও বেশি। পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০, চাষের কই ২০০ থেকে ২৪০ এবং তেলাপিয়া ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, টেংরা ৫৫০ থেকে ৬০০, শিং ও মাগুর ৬০০ থেকে ৭০০, শোল ৭০০ থেকে ৮০০ এবং বিভিন্ন ধরনের চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের অন্য বাজারেও বেড়েছে খরচ। ফার্মের লাল ডিমের দাম ডজনে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায় উঠেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০, আমদানি করা রসুন ১৮০ থেকে ২০০, মোটা মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০, চিকন মসুর ডাল ১৬০, খোলা আটা ৫০ এবং ময়দা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শারমিন আক্তার নামে এক গৃহিণী বলেন, প্রতি সপ্তাহে বাজারে এসে নতুন দাম দেখতে হচ্ছে। আগে যে অর্থ দিয়ে কয়েক দিনের জন্য প্রয়োজনীয় সবজি কেনা যেত, এখন সেই টাকায় আগের তুলনায় অর্ধেকও কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা সবজির নতুন চালানে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। সেই ব্যয়ের প্রভাবই খুচরা বাজারে পড়ছে।
অন্যদিকে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম বিভাগ) আতিয়া সুলতানা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যবসায়ী বা অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই বাজার তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
