ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরে প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা পারমাণবিক প্রযুক্তিতে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ নামে পরিচিত।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে রোববার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে চুল্লিতে এ বিক্রিয়া শুরু হয়।
ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে চুল্লির ভেতরে কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া চালু করা হয়। এ সময় চুল্লির কার্যক্রম, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। পর্যায়ক্রমে এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুল্লির ক্ষমতা বৃদ্ধি, টারবাইন চালু এবং জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয় বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে আরও দুটি অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ৩ শতাংশ ক্ষমতায় পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদনক্ষমতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার পরও পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়ানো হবে। পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর পর কিছুদিন পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে। এরপর শুরু হবে বাণিজ্যিক উৎপাদন। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় সাত থেকে আট মাস লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এ কেন্দ্র থেকে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম ইউনিটে বিক্রিয়া শুরুর পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজও চলছে।
দুটি ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় নতুন উৎস যোগ হবে। এর ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি ও লোডশেডিং কমাতে সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সূচনা হবে।
