মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। একুশের প্রথম প্রহরেই ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নেমে আসে মানুষের ঢল। রাত ১২টা ১ মিনিটের পর থেকেই ফুলে ফুলে ভরে ওঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ।
একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। রাত ১২টা এক মিনিটে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতির পর শহীদ মিনারে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দলীয় প্রধান হিসেবেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভাষাশহীদদের স্মরণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ১৯৫২ সালের বীর শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিন বাহিনীর প্রধানরা। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান।
এবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি আজিমপুরে শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। খালি পায়ে ও হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ বেদিতে ভিড় করেন। অনেকেই সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন, যাতে নতুন প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন ভাষাশহীদরা। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই একুশ আজ শোকের পাশাপাশি গৌরব, চেতনা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের স্মরণ করেন। অনেকের হাতে ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আহ্বানসংবলিত প্ল্যাকার্ড, যা দিবসটির তাৎপর্যকে আরও গভীর করে তোলে।