ক্যানসার বা কর্কটরোগ হলো অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের ফলে সৃষ্ট রোগসমূহের একটি সমষ্টি। প্রাণঘাতী এই রোগটির নাম শুনলেই বেশিরভাগ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। কারণ এখনো ক্যানসারে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে বর্তমানে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা অনেক সহজ হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ক্যানসারে আক্রান্তদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্যানসারই চিকিৎসাযোগ্য যদি শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া যায়। কিন্তু সাধারণত মানুষ ছোটখাটো উপসর্গকে গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান, যা অনেক সময় বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়।
যুক্তরাজ্যের ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এমন উপসর্গে ভুগেছেন যা ক্যানসারের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে। অথচ মাত্র দুই শতাংশ মানুষ ভেবেছেন এটি গুরুতর সমস্যা হতে পারে। এমনকি এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ এসব উপসর্গ উপেক্ষা করেছেন এবং চিকিৎসকের কাছে যাননি।
গবেষক ক্যাটরিনা হুইটেকার বলেন, অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে যেতে সংকোচ বোধ করেন। তারা মনে করেন এতে চিকিৎসকের সময় ও স্বাস্থ্যসেবার সম্পদ নষ্ট হবে। অথচ তার মতে, যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গ অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি জানিয়েছে, কিছু উপসর্গ ক্যানসারের প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে পারে। সেগুলো হলো—
কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া – হঠাৎ পাঁচ কেজি বা তার বেশি ওজন কমে গেলে এটি অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলি, খাদ্যনালি বা ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
জ্বর – বিশেষ করে লিউকেমিয়া ও লিম্ফোমার ক্ষেত্রে প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর দেখা দেয়।
চরম ক্লান্তি – বিশ্রামের পরও ক্লান্তি না কমা ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
ত্বকে পরিবর্তন – ত্বক কালো হয়ে যাওয়া, হলুদাভ ভাব, লালচে হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক চুলকানি বা অতিরিক্ত লোম গজানো।
অন্ত্র বা মূত্রাশয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন – দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা প্রস্রাবে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
ক্ষত সেরে না ওঠা – শরীরের বা মুখের কোনো ক্ষত চার সপ্তাহেও ভালো না হলে এটি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
শরীরের কোথাও শক্ত ভাব বা গুটি অনুভূত হওয়া – বিশেষ করে স্তন, অণ্ডকোষ বা গ্রন্থিতে এ ধরনের পরিবর্তন হলে তা গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অস্বাভাবিক রক্তপাত – কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, মল বা প্রস্রাবে রক্তপাত ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন – টানা তিন সপ্তাহের বেশি কাশি বা কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া ফুসফুস বা স্বরযন্ত্রের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
গিলতে অসুবিধা বা বদহজম – ইসোফ্যাগাস, পাকস্থলি বা গলার ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়।
সব উপসর্গই যে ক্যানসারের কারণে হয় তা নয়। এগুলো অনেক সময় অন্য রোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। তবে কোনো উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা সহজে না সেরে উঠলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
