শিরোনাম

বড় জয়ে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ, সিরিজের নিষ্পত্তি কলম্বোতে

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৫-০৭-১৪

 

ছুটির দিনের সুযোগে রাংগিরি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। অনেকে টিকিট না পেয়ে সুড়ঙ্গপথে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন শুধু শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য জয় দেখতে। কিন্তু সেই আশা একপর্যায়ে মিলিয়ে যায়। ম্যাচের শেষ না দেখেই গ্যালারি ছাড়েন অধিকাংশ দর্শক। কারণ, ১৭৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ৮৩ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। তখনই নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচে জয়ী হচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রথম টি২০তে ক্যান্ডির পাল্লেকেলেতে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ডাম্বুলায় ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। ৮৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ, যা টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ রানের জয়। এর মধ্য দিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরেছে। এখন সিরিজের ভাগ্য নির্ধারিত হবে ১৬ জুলাই, কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।

ডাম্বুলায় এই বড় জয়ের ভিত্তি তৈরি হয় ব্যাটিংয়ে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান করে বাংলাদেশ। শুরুতে ৭ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ইমন ও তামিম বিদায় নিলেও লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় গড়েন ৫৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। হৃদয় করেন ২১ বলে ৩১ রান।

এরপর আসে সবচেয়ে কার্যকর জুটি—লিটন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারীর। দু’জনে মিলে ৩৯ বলে যোগ করেন ৭৭ রান। এই সময় লিটন করেন ১৮ বলে ৩৭ এবং শামীম ২১ বলে ৩৭ রান। লিটন তাঁর অর্ধশতক পূর্ণ করেন ৩৯ বলে, থিকসেনাকে ছক্কা মেরে। এটি তাঁর টি২০ ক্যারিয়ারের দ্বাদশ হাফ সেঞ্চুরি। শামীম রানআউট না হলে সেও হাফ সেঞ্চুরি করতে পারতেন। তিনি ২৭ বলে ৪৮ রান করেন ১৭৭.৭৭ স্ট্রাইকরেটে।

লিটন আগেই বলেছিলেন, টি২০ ক্রিকেটে ১২০-১২৫ স্ট্রাইক রেট যথেষ্ট নয়; দেড়শর বেশি স্ট্রাইক রেটেই ম্যাচে প্রভাব ফেলা যায়। সেই কথার প্রতিফলন ঘটান তিনি নিজেই—৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটার খেলেন ১৫২ স্ট্রাইক রেটে। এই দুটি ইমপ্যাক্ট ইনিংসের বদৌলতেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ১৭৭ রানে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নামা শ্রীলঙ্কা শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় শরিফুল, সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজ ও রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিক দল। পাথুম নিশাঙ্কা ও দাশুন শানাকা ছাড়া কেউই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। সঙ্গে ছিল দুর্দান্ত ফিল্ডিং—একটিও ক্যাচ পড়েনি, বাউন্ডারির পথে বল গড়ায়নি। ৬ ম্যাচ পর পাওয়া এই জয় তাই ছিল একেবারে নিখুঁত ও দাপুটে।

এখন অপেক্ষা ১৬ জুলাইয়ের। কলম্বোর মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে নির্ধারিত হবে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ সিরিজের ভাগ্য।

error: Content is protected !!