ছবি সংগৃহীত
সিলেট—সড়ক, বাজার ও গণপরিবহনে মোবাইল ফোন ছিনতাই ও চুরি বাড়ছে; অনেক ভুক্তভোগী হয়রানির ভয়ে জিডি করতে অনিচ্ছুক থাকায় সরকারি পরিসংখ্যান বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, যাতে চুরি হওয়া ফোনগুলো ব্যবহার কিংবা স্থানীয় ও অনলাইন বাজারে বিক্রি করা কঠিন—or–অসম্ভব হয়ে ওঠে।
স্থানীয় প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নগরের কিছু এলাকা—বিশেষত আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ও কদমতলী বাস টার্মিনাল—চোরচক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ভিড়-ভাগাড় এবং গণপরিবহনে সুযোগ বুঝে মোবাইল হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা ও আবাসিক পাড়া-মহল্লায় ছিনতাইও ক্রমশ বাড়ছে। যদিও বিভিন্ন থানায় অনেক জিডি (জরুরি সংবাদ/অভিযোগ) দায়ের করা হয়, উদ্ধার হওয়া ফোনের সংখ্যা খুবই কম। অনেক ভুক্তভোগীই ফোন ফিরে পাওয়ার আশা না করে জিডি পর্যন্ত করেন না—ফলস্বরূপ প্রকৃত চুরি ঘটনার পরিমাণ সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি থাকতে পারে।
এসএমপি জানিয়েছে, তারা সমস্যার মূলেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঘাত হানবেন। কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী (পিপিএম-সেবা) বলেছেন, “বর্তমানে সিলেটের বড় একটি সমস্যা হলো মোবাইল চুরি। আমাদের পক্ষে সবগুলো মোবাইল খুঁজে বের করা সম্ভব হয় না। আমরা একটা উপায় বের করার চেষ্টা করছি, যাতে চুরি যাওয়া ফোনটি সামান্য দামেও বিক্রি করা সম্ভব না হয়।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের পরিকল্পনায় ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টারভিত্তিক (ইএনআই/আইএমইআই) ব্লকিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে—যা আইএমইআই ব্লক করে ফোনকে কার্যত অকেজো করে দেবে। তবে চোরচক্র আইএমইআই পরিবর্তন করে ফেলার প্রবণতা বিবেচনায় এই পন্থার পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তামূলক বিধানও জরুরি হবে, বলে তারা সতর্ক করেছেন।
এসএমপি আরও জানিয়েছে, তারা ‘জিনিয়া’ নামের মোবাইল অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে নগরবাসী দ্রুত ওয়ান-স্টপে জিডি করতে পারবেন এবং পুলিশকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে পারবেন। পুলিশ জানায়, অ্যাপটিতে লোকেশন শেয়ার, অভিযোগ ট্র্যাকিং এবং জরুরি সেবা সংযুক্ত থাকবে—যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও অনুসন্ধানে সহায়তা করবে।
পুলিশের প্রত্যাশা, প্রযুক্তি নির্ভর এই পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে চুরি হওয়া ফোনের বাজার ধ্বংস হবে এবং চোরচক্রের জন্য ফোন বিক্রি করা লাভজনক থাকবে না। পাশাপাশি নাগরিকের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে লোকাল বাজার ও অনলাইনে চোরাইফোন ক্রয়ের ঝুঁকিও কমবে—যা অপরাধদমন কার্যক্রমকে আরও শক্ত করবে।
