ডেঙ্গু চিকিৎসা আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার জারি করা এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, জেলার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের কাছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে অবিলম্বে বিশেষ ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করতে হবে এবং চিকিৎসকদের নিয়ে আলাদা টিম গঠন করতে হবে। এতে রোগীদের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছে অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে—
হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কক্ষ রাখতে হবে।
আইসিইউ প্রয়োজন হলে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এনএস–১ পরীক্ষা, জরুরি চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত ওষুধের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে।
এছাড়া, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য মেডিসিন, শিশু ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের অধীনে মেডিকেল অফিসার ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের বিশেষ দল কেবল এ রোগীদের চিকিৎসা করবে। বহির্বিভাগে আসা সন্দেহভাজন রোগীদেরও একই বোর্ড তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
হাসপাতাল এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে স্থানীয় সিটি করপোরেশন বা পৌরসভাকে সহযোগিতার জন্য পত্র দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় ডেঙ্গু সমন্বয় সভা আয়োজন করতে হবে, যেখানে হাসপাতালের পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন উপস্থিত থাকবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগে শুধু চিকিৎসার মানই বাড়বে না, বরং রোগী ও তাদের পরিবারের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলে মৃত্যুহারও কমে আসবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশে ডেঙ্গু বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়ছে। যদিও এখনো হাসপাতালগুলোতে চাপ সামলানো সম্ভব হচ্ছে, তবে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।
