ছবি সংগৃহীত
চা এখন অনেকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকালে ঘুম ভাঙানো থেকে শুরু করে মনমরা বিকেলে প্রাণ জাগানো, আড্ডার মজার সঙ্গী থেকে একঘেয়েমি দূর করার ওষুধ—সবেতেই চায়ের জুড়ি মেলা ভার। এমনকি রাজনীতির গরমাগরম তর্কও প্রায়ই এক কাপ চায়ের সঙ্গে জমে ওঠে।
তবে এই ধোঁয়া ওঠা গরম চা মাঝেমধ্যে শরীরের জন্য বিপদের কারণও হতে পারে।
আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুধ চা—ঘন দুধে চা পাতা ফুটিয়ে তাতে আদা ও এলাচ মিশিয়ে তৈরি করা এই চায়ের এক চুমুকেই অনেকের মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু অন্যদিকে, অনেকের জন্য এই চা হয়ে ওঠে এসিডিটির কারণ।
অম্বল, বুকজ্বালা ও গ্যাসের মতো সমস্যা তখন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়, আর আরাম পেতে ওষুধই হয়ে ওঠে শেষ ভরসা।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে, চায়ের স্বাদ ঠিক রেখেই অম্বলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব—যদি চা বানানোর পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা যায়। বিশেষ এক উপায়ে তৈরি চা হতে পারে প্রদাহনাশক ও অন্ত্রের জন্য উপকারী পানীয়।
জেনে নেওয়া যাক সেই পদ্ধতি—
🔹 প্রথম ধাপ: চা তৈরিতে দুধ বাদ দিতে হবে। কারণ দুধ এসিডিটির ঝুঁকি বাড়ায়। তার বদলে লাল চা খেলে সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। লাল চায়ে থাকা পলিফেনল নামের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের ভেতরে ভালোভাবে কাজ করে।
🔹 দ্বিতীয় ধাপ: পানি ফুটে উঠলে তাতে চা পাতা দিয়ে দিন এবং কয়েকটি আদার টুকরা যোগ করুন—এটি হজমে সহায়ক।
🔹 তৃতীয় ধাপ: ২-১টি ছোট এলাচ হালকা থেঁতো করে দিন চায়ে। এটি পেট ফাঁপা কমায় এবং চিনি ছাড়া চায়ে প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব যোগ করে।
🔹 চতুর্থ ধাপ: চায়ে একটি লবঙ্গ দিন। এতে থাকা ইউজিনল লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পর চা একটু ঠাণ্ডা হতে দিন। খুব গরম অবস্থায় নয়, বরং ঈষদুষ্ণ অবস্থায় ছোট ছোট চুমুকে পান করুন। এতে চায়ের উপকারিতা আরও বেশি পাওয়া যাবে।
