সকালের অভ্যাস গড়তে অনেকেই জটিল রুটিন বা ব্যয়বহুল খাবারের দিকে ঝোঁকেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দিন শুরুর জন্য সহজ একটি অভ্যাসই যথেষ্ট— যেমন খালি পেটে প্রতিদিন ২টি করে খেজুর খাওয়া। ভারতীয় পুষ্টিবিদ এশাঙ্কা ওহি জানান, ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এই ছোট্ট রুটিনটি সহজেই অনুসরণ করা যায় এবং এর উপকারিতা খুব দ্রুতই শরীরে অনুভব করা যায়।
তার মতে, খেজুরে থাকা ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রাকৃতিক চিনি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একসঙ্গে কাজ করে শক্তি ও হজম দুটোই উন্নত করে। সকালে দুটি খেজুর খাওয়া শরীরকে ক্যাফেইন ছাড়াই ধীর-স্থিরভাবে জাগিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
নিচে দেখুন— প্রতিদিন মাত্র ২টি খেজুর খেলে শরীরে কী কী পরিবর্তন আসে:
অনেকেই দিনের শুরুতে চা-কফি খেয়ে এনার্জি পেতে চান। তবে ক্যাফেইনের শক্তি দ্রুত বাড়লেও আবার তত দ্রুত কমে গিয়ে ক্লান্তি বা ঝিমুনিভাব তৈরি করে। Critical Reviews in Food Science and Nutrition জার্নালের তথ্যমতে, খেজুরে থাকা গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ শরীর খুব সহজে গ্রহণ করতে পারে।
পুষ্টিবিদ এশাঙ্কা বলেন, এই প্রাকৃতিক শর্করা শক্তি দেয় ধীরে ও স্থিতিশীলভাবে। ফাইবার ও মিনারেল থাকার কারণে এই এনার্জি দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকে। ফলে সকালজুড়ে সতর্ক, উদ্যমী ও মনোযোগী থাকা যায়, কোনো আকস্মিক ‘হাই-ক্র্যাশ’ ছাড়াই।
সকালে দ্রুত ক্ষুধা পাওয়া বা মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ অনেকের খাদ্যাভ্যাসকে ব্যাহত করে। এশাঙ্কা জানান, খেজুরের ফাইবার হজম ধীর করে, ফলে পেট ভরা থাকে দীর্ঘক্ষণ। এতে অযথা স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে।
তার মতে, খেজুরের হালকা মিষ্টি স্বাদ প্রক্রিয়াজাত মিষ্টির বিকল্প তৈরি করে। এটি ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য একটি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক উপায়।
খেজুরে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার ও অ্যামিনো অ্যাসিড, যা হজম প্রক্রিয়াকে নিয়মিত রাখতে সহায়তা করে। Journal of Food and Nutrition-এর তথ্যমতে, খেজুরের এই উপাদানগুলো শরীরকে খাবার ভাঙতে সাহায্য করে।
এশাঙ্কা জানান, প্রতিদিন দুটি খেজুর খেলে নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে এবং হজম ধীরগতি কিংবা খাবারের পর অস্বস্তি কমায়।
National Library of Medicine-এর প্রতিবেদন বলছে, খেজুর অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে, যা হজমকে মসৃণ করে, পুষ্টি শোষণ বাড়ায় এবং সারাদিন পেটের আরাম বজায় রাখতে সাহায্য করে।
খেজুরে আছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট— ফ্লাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনলিক অ্যাসিড। Nutrition and Food Sciences Department-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং কোষ ক্ষয় কমায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।
পুষ্টিবিদ এশাঙ্কা বলেন, নিয়মিত খেজুর খাওয়া সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। সব বয়সের মানুষই এটি নিরাপদে খেতে পারেন। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
