রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে শরীরের ওপর কিছুটা চাপ পড়ে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা বা হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই প্রবীণদের জন্য ইফতারে এমন খাবার নির্বাচন করা জরুরি, যা সহজে হজম হয় এবং শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়।
প্রাকৃতিক শক্তির উৎস দিয়ে ইফতার শুরু
ইফতার শুরু করার জন্য খেজুর একটি আদর্শ খাবার। এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে কলা, আপেল বা পেয়ারা মতো তাজা ফল রাখা যেতে পারে। এসব ফল সহজপাচ্য হওয়ার পাশাপাশি শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সরবরাহ করে।
তরল খাবারের গুরুত্ব
সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে ডাবের পানি প্রবীণদের জন্য একটি উপকারী পানীয়, যা শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি গরম সবজি বা মুরগির স্যুপ ইফতারে রাখা যেতে পারে। এটি হালকা, পুষ্টিকর এবং সহজে হজমযোগ্য।
আঁশযুক্ত খাবার রাখুন তালিকায়
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হজমশক্তি কিছুটা কমে যায় এবং অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। তাই ইফতারে গাজর, ফুলকপি বা অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ সবজি রাখা ভালো। এছাড়া পেটের জন্য আরামদায়ক হওয়ায় পান্তা ভাতও অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে।
প্রোটিনসমৃদ্ধ হালকা খাবার
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরের শক্তি ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ইফতারে মাছ, ডিম বা দুধজাত হালকা খাবার রাখা যেতে পারে। তবে খাবার রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল-মসলা এড়িয়ে চলাই ভালো। ভাজাপোড়া খাবারের বদলে সেদ্ধ বা স্টিম করা খাবার স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস
একসঙ্গে বেশি খাবার খেলে প্রবীণদের পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ইফতারে বড় পরিমাণ খাবারের পরিবর্তে অল্প অল্প করে কিছু সময় পরপর খাবার খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যসম্মত। এতে হজমে সুবিধা হয় এবং শরীরও স্বাভাবিক থাকে।

