ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় দালালসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত ১১ এপ্রিল ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর উপজেলার গুয়াবাড়ি বিওপির একটি টহল দল সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ফেরীঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ৪৬০ কেজি ভারতীয় জিরা এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
এর আগে ১০ এপ্রিল সুরাইঘাট, লালাখাল, জৈন্তাপুর ও আটগ্রাম বিওপির পৃথক টহল দল জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫টি মহিষ, ৩০০ কেজি চিনি, ৫০ কেজি জিরা ও ৩৪ কেজি চা পাতা উদ্ধার করে। এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা।
দুই দিনের অভিযানে মোট জব্দকৃত পণ্যের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ ১০ হাজার ৬০০ টাকা। জব্দকৃত মালামাল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, ১২ এপ্রিল পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় এক রোহিঙ্গা (এফডিএমএন) সদস্য, দুই বাংলাদেশি নাগরিক ও এক দালালকে আটক করা হয়।
কানাইঘাট উপজেলার কাচারীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. আলী হোসাইন (৩৫)কে ভারতে যাওয়ার সময় আটক করা হয়। এ ঘটনায় তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগে দালাল রুমেল আহমেদ (২৩)কেও গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তবে এ সময় আরও এক দালাল পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে, পূর্ব কারাবাল্লা এলাকায় পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় নড়াইলের মো. রুবেল শেখ (৩৩) ও যশোরের মোছা. শাহানাজ (৪০)কে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও এক দালাল পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার জানান, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
