ছবি: সংগৃহীত
আমাদের শরীরের ভেতরে নীরব যোদ্ধার মতো কাজ করে লিভার। প্রতিদিন আমরা যা খাই, পান করি কিংবা শরীরে জমে থাকা টক্সিন—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে এই অঙ্গ। শুধু টক্সিন অপসারণই নয়, লিভার খাবার হজমে সাহায্য করে, শক্তি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে। গবেষকদের মতে, লিভার একাই ৫০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে! অথচ আমরা অজান্তেই প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমে এই অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করছি। ভাত-রুটি থেকে শুরু করে তেলেভাজা কিংবা কোমল পানীয়—কিছু পরিচিত খাবার ধীরে ধীরে লিভারের রোগ ডেকে আনছে। ফলাফল হিসেবে দেখা দিতে পারে ফ্যাটি লিভার, সিরোসিস কিংবা আরও ভয়াবহ জটিলতা।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৩টি পরিচিত খাবারের কথা, যা ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি করছে—
সয়াবিন, কর্ন বা সানফ্লাওয়ার অয়েলের মতো সিড অয়েল আমাদের রান্নাঘরে বহুল ব্যবহৃত। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে থাকে ‘ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড’, যা শরীরে অতিরিক্ত ইনফ্লেমেশন ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করে। এর ফলে লিভার আক্রান্ত হয়ে ‘স্টিয়াটো হেপাটাইটিস’ নামক জটিল রোগ দেখা দিতে পারে।
সমাধান
রান্নায় ব্যবহার করুন স্বাস্থ্যকর তেল যেমন অলিভ অয়েল, সরিষার তেল বা নারকেল তেল।
ভাজাপোড়া ও প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভাত, রুটি, আলুর মতো কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার বেশি থাকে। কিন্তু এগুলো অতিরিক্ত খেলে শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরি হয়, যা চর্বি কোষে জমে গিয়ে পরে লিভারে প্রভাব ফেলে। এর ফলে লিভারে চর্বি জমে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) তৈরি হয়।
সমাধান
পরিমিত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করুন।
শর্করার উৎস হিসেবে বেছে নিন ফল, সবজি ও গোটা শস্য।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
ফ্রুকটোজ প্রাকৃতিকভাবে ফলে থাকলেও তা ক্ষতিকর নয়। তবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ফ্রুকটোজ—যেমন ‘হাই-ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ’ বা ‘সুক্রোজ’—বেশিরভাগ কোমল পানীয়, মিষ্টি দই ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে মেশানো হয়। এগুলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি তৈরি করে এবং ইনফ্লেমেশন বাড়ায়।
সমাধান
প্রাকৃতিক ফল খান, তবে ফ্রুট জুস, কোল্ড ড্রিংকস, ক্যান্ডি ও বেকড খাবার এড়িয়ে চলুন।
খাবারের লেবেল দেখে নিন, সেখানে ‘হাই-ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ’ বা ‘অ্যাডেড সুগার’ আছে কি না।
