ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের কাছে থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় প্রচারণা শেষ হওয়ার পর ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু হয়। ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের টিম।
সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৮৮১টি। এর মধ্যে ১ হাজার ১২৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগের সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের ৬টি আসনে রয়েছে ১ হাজার ১৬টি কেন্দ্র, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে ৬৬৪টি, হবিগঞ্জের ৪টি আসনে ৬৪৭টি এবং মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ৫৫৪টি কেন্দ্র রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে সিলেটে ২১৭টি, সুনামগঞ্জে ৪৫১টি, হবিগঞ্জে ২৩৫টি এবং মৌলভীবাজারে ২২৩টি কেন্দ্র রয়েছে।
সিলেট জেলার ৬টি আসনের ২১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে বিয়ানীবাজারে ২টি, দক্ষিণ সুরমায় ৪টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১২টি, গোয়াইনঘাটে ৪৬টি, কানাইঘাটে ৫০টি, কোম্পানীগঞ্জে ১টি, সদর উপজেলায় ৪৫টি, জকিগঞ্জে ৯টি, জৈন্তাপুরে ২৪টি এবং বালাগঞ্জে ২৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া সিলেট নগরীর ২৯৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৫টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নগরীর সব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনের ৬৬৪টি কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ১২ উপজেলার মধ্যে ৯ উপজেলায় ৮৯টি কেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ, ১৫৭টি দুর্গম এবং ২৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্বাচন উপলক্ষে জেলায় সেনাবাহিনীর দুটি বীর ব্যাটালিয়ন ও একটি ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের প্রায় ১ হাজার ১০০ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় বিজিবির দুটি করে প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ৩ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য, ১২ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য এবং ১ হাজার ২০০ গ্রাম পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও টহলে থাকবেন।
হবিগঞ্জ জেলার ৪টি আসনে মোট ৬৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর মধ্যে ১০৩টি অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারে মহড়া পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনে জেলায় ২০৬৭ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ৫৫টি মোবাইল টিম, ৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ২টি কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সীমান্তবর্তী এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ প্লাটুন বিজিবি, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনের ৫৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারসহ বাড়তি নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও মোতায়েন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
