শিরোনাম

সিলেটে জ্বালানি সংকটে স্থবিরতা, বিপাকে চালক ও সাধারণ মানুষ

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৪-১৭
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক, মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ মানুষ। নগরীর অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল না থাকায় পরিবহন খাতে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল না পেয়ে বিপাকে পড়েন হাজারো মানুষ। নগরীর অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তেলের অভাবে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষদের বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

আম্বরখানা এলাকার মাইক্রোচালক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে একাধিক পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়েও পেট্রোল পাননি। এতে তার আয় বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নগরীর বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবুল কাসেম জানান, অকটেন সংকটে তার ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। দিনভর ১৫-২০টি পাম্পে ঘুরেও কোথাও তেল পাননি তিনি।

মেজরটিলা এলাকার বাসিন্দা সেলিনা বেগম বলেন, আকস্মিক এ সংকটে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।

এদিকে লামাবাজারের ব্যবসায়ী নাসিম হোসেন অভিযোগ করেন, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সংকট তৈরি হওয়ায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি তারা। জ্বালানি না পাওয়ায় তার দৈনন্দিন কাজ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

একাধিক গ্রাহক জানান, পাঠানটুলা, আম্বরখানা ও চৌকিদেখিসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পাম্পগুলোতেও তেল পাওয়া যায়নি। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরেছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ বলেন, সরকারি হিসাবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও নতুন নিয়মে প্রতিটি পাম্পে দৈনিক মাত্র ২ হাজার লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

তিনি আরও জানান, কম পরিমাণ তেল পরিবহনে খরচ বেশি হওয়ায় অনেক পাম্প মালিক সরবরাহ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এতে করে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তবে একসঙ্গে কয়েক দিনের তেল সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে, যা বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

তেল মজুত বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, প্রতিটি পাম্পে সরকারি ট্যাগ অফিসারসহ বিভিন্ন সংস্থার নজরদারি রয়েছে, ফলে মজুতের সুযোগ নেই।

অন্যদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম জানান, জ্বালানির প্রকৃত ঘাটতি নেই। বরং আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা বাড়ায় সাময়িকভাবে পাম্পগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে এবং দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

 

error: Content is protected !!