বসন্তের আনুষ্ঠানিক আগমনের আগেই আগুনরাঙা সৌন্দর্যে সেজে উঠেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শিমুল বাগান। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই বাগানের প্রতিটি গাছে ফুটেছে টকটকে লাল শিমুল ফুল। চারপাশে যেন লাল রঙের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীরা।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মানিগাঁও এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে এই শিমুল বাগান। এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে তিন হাজারের বেশি শিমুল গাছ রয়েছে। ২০০৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে বাগানটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ জয়নাল আবেদিন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাছগুলো বড় হয়ে ফুলে ভরে উঠলে বাগানটি দ্রুতই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে এটি এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। প্রতি বছর বসন্ত মৌসুমে, বিশেষ করে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে এখানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বাগানের মালিক জয়নাল আবেদিনের ছেলে এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন জানান, এ বছর শিমুল ফুল কিছুটা আগেভাগেই ফুটেছে। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। অনেকেই শুধু শিমুল ফুল দেখার জন্য এখানে আসেন। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের দিন দর্শনার্থী কিছুটা কম হতে পারে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন। ভোটের আগে ও পরে আবারও পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ উদ্দিন বলেন, শিমুল বাগান এই এলাকার অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। ফুলের মৌসুমে এখানে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও চাঙা হয়ে ওঠে এবং পুরো এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
শিমুল বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সিলেট থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সুমি আক্তার জানান, লাল শিমুল ফুলে ভরা পুরো বাগানটি দৃষ্টিনন্দন। তিনি বলেন, গত বছর ভালোবাসা দিবসে এখানে এসেছিলেন। এবার জাতীয় নির্বাচন ভালোবাসা দিবসের আগের দিন হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তাই ফুল ফুটার খবর পেয়ে আগেভাগেই ঘুরতে এসেছেন। তার মতে, প্রকৃতি উপভোগ ও ছবি তোলার জন্য এটি একটি চমৎকার স্থান।
বাগানসংলগ্ন হোটেল ব্যবসায়ী ও পেশাদার আলোকচিত্রীদের মতে, চলতি বছর শিমুল বাগানকে ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহ থাকলেও নির্বাচনের কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই দিন নিরাপত্তা জোরদার ও প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কম থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে শিমুল বাগান পরিদর্শন করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আগুনরাঙা শিমুল বাগান এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের দিন ঘিরে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও ভোট শেষ হলে আবারও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লাল আঙিনা—এমন প্রত্যাশাই স্থানীয়দের।
