পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চকওয়াল জেলার বালকাসার ইন্টারচেঞ্জের কাছে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত এবং অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। আজ রবিবার (২৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে ডন।
চকওয়াল রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র জানান, ইসলামাবাদ থেকে লাহোরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস চলার পথে হঠাৎ একচাকা বিস্ফোরিত হয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে পাশের গভীর খাদে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৮ যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও ১৮ জন।
রেসকিউ সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে ৩৫ থেকে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই চকওয়াল রেসকিউ ১১২২ ছয়টি উদ্ধারযান ঘটনাস্থলে পাঠায়। এ ছাড়া উদ্ধারকাজে অংশ নেন ন্যাশনাল হাইওয়ে ও মোটরওয়ে পুলিশ, চকওয়াল থানা পুলিশ এবং ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের সদস্যরা।
আহতদের কালার কাহার তহসিল সদর হাসপাতাল ও চকওয়াল জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চকওয়াল জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডা. মুখতার সারওয়ার নিয়াজি জানান, হাসপাতালে আনা আহতদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা খারাপ। এর মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের রাওয়ালপিন্ডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রেসকিউ ১১২২ আরও জানায়, নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে, যাদের বয়স যথাক্রমে ৮ মাস, ১ বছর এবং ২ বছর। সবচেয়ে বেশি বয়সের নিহত ব্যক্তি ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী। আহতদের বয়স ১৪ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে।
চকওয়াল জেলার পুলিশ প্রধান আহমেদ মোহিউদ্দিন একদল ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চকওয়াল রেসকিউ ও সেফটি অফিসার শওকত আলী বলেন, “আমাদের উদ্ধারকর্মীরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দ্রুত সাড়া দিয়ে আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়েছেন এবং নিহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন।”
তিনি গাড়ি চালকদের প্রতি আহ্বান জানান, দীর্ঘ যাত্রার আগে অবশ্যই গাড়ির পূর্ণাঙ্গ যান্ত্রিক পরীক্ষা—বিশেষ করে চাকা, ব্রেক এবং স্টিয়ারিং সিস্টেম—ভালভাবে পরীক্ষা করে নেওয়ার জন্য।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যার পেছনে সাধারণত দ্রুতগতিতে চালানো, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকে দায়ী করা হয়।
