ছবি সংগৃহীত
চার বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে নেপালের বিপক্ষে কাঠমান্ডুতে হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। শনিবার অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতি ম্যাচে জামাল ভূঁইয়ারা স্বাগতিকদের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ে।
এক সময় নেপালের বিপক্ষে নিয়মিত বড় ব্যবধানে জিতত বাংলাদেশ। তবে সময়ের পরিবর্তনে গত পাঁচ বছরে জয় মুখ দেখেনি লাল-সবুজরা। এবারের ড্র অন্তত সেই হতাশার বোঝা কিছুটা হালকা করল।
অক্টোবরে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান কাপ বাছাইকে সামনে রেখে নিজেদের যাচাই করতেই নেপাল সফরে গেছে বাংলাদেশ দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দুই দল গোলশূন্য সমতায় থামে। এতে অন্তত হারের শঙ্কা এড়াতে পেরেছে জামাল ভূঁইয়ারা।
নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। ২০২১ সালে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালে ওঠা হয়নি। একই বছর কাঠমান্ডুতেই এক ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে নেপালের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। পরে ওই আসরে আরেকটি ম্যাচে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। চার বছর পর সেই ধারাবাহিকতাতেই আবারও কাঠমান্ডুতে সমতায় থামল লাল-সবুজরা।
এ ম্যাচে অভিষেক হওয়া গোলরক্ষক সুজন হোসেন ছিলেন নির্ভরযোগ্য। নেপালের আক্রমণ সামলাতে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি তাকে। তবে ৩৬ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো ধরতে গিয়ে নেপালি গোলরক্ষক কিরণ বল ফসকালে ফাঁকা পোস্ট পেয়ে যান এক বাংলাদেশি ফরোয়ার্ড। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বলটি জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক গোছানো ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। বল দখল ও পাসিংয়ে পরিকল্পনার ছাপ ছিল স্পষ্ট। তবে ভারী মাঠে খেলা চালাতে সমস্যা হয়েছে দুই দলেরই। কয়েকজন নেপালি খেলোয়াড় আঘাত পেলেও গুরুতর চোটের শঙ্কা ছিল না।
অস্ট্রেলিয়ান কোচ ম্যাট রসের অধীনে নেপালের খেলায় উন্নতির ছাপ স্পষ্ট ছিল, যদিও তারা দীর্ঘদিন ঘরোয়া প্রতিযোগিতা থেকে দূরে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই নির্ধারণ হবে কাঠমান্ডু সফরের শেষ হাসি কার মুখে ফোটে।
