ছবি সংগৃহীত
শীতের শুরুতে তাপমাত্রা কমে গেলে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় নাক-গলার মিউকাস শুকিয়ে যায় এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, অ্যালার্জি ও হাঁপানি রোগীরা বেশি আক্রান্ত হন।
১. ভিটামিন C–সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন
আমলকি, পেয়ারা, কমলা, সবুজ মরিচ শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়িয়ে সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। সকালে লেবু-গরম পানি বা দুপুরে কাঁচা সালাদ খাওয়া উপকারী।
২. ভিটামিন D ও জিঙ্ক ইমিউনিটি বাড়ায়
শীতে সূর্যের আলো কম পাওয়ার কারণে ভিটামিন D কমে যায়। ডিম, দুধ, মাছ, মাশরুম খাবার তালিকায় রাখতে পারেন। জিঙ্ক (ছোলা, ডাল, বাদাম, বীজ) ভাইরাসের বৃদ্ধি কমায়।
৩. প্রতিদিনের প্রতিটি মিলেই প্রোটিন রাখুন
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে শরীরের অ্যান্টিবডি তৈরিতে প্রোটিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ডিম, দুধ, টক দই, মাছ, মুরগি, ডাল, ছোলা, বাদাম, মাশরুম, সয়াবিন ইত্যাদি নিয়মিত খেতে হবে।
৪. প্রোবায়োটিক খাবার সংক্রমণ ও গলা ব্যথা কমায়
টক দই, ঘরে তৈরি লাচ্ছি ও ফারমেন্টেড খাবার অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, যা গলা ব্যথা ও কাশি কমাতে সহায়তা করে। তবে শীতকালে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত টক দই খাওয়া ভালো; রাতে খেলে কারো কারো ক্ষেত্রে কফ বেড়ে যেতে পারে।
৫. উষ্ণ পানীয় congestion কমায়
আদা-লেবু- মধুর চা, চিকেন বা ভেজিটেবল স্যুপ, ডিম বা ডালের সাথে ভেজিটেবল স্যুপ, অথবা হলুদ-দুধ গলার প্রদাহ কমাতে ও নাকের ব্লকেজ খুলতে কার্যকর।
৬. শীতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ঠাণ্ডায় তৃষ্ণা কম লাগলেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে। দিনে ৬-৮ গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করুন—এ এটি মিউকাস ঝিল্লি আর্দ্র রাখে। দিনে মোট অন্তত ১২ গ্লাস পানি পান করা জরুরি।
৭. অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি খাবার শ্বাসযন্ত্রের সুরক্ষায় সহায়ক
হলুদ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, রসুন, কালোজিরা, অলিভ অয়েল, সরিষার তেল ও ওমেগা-৩–সমৃদ্ধ মাছ congestion ও গলার প্রদাহ দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।
শীতকালীন ঠাণ্ডা-কাশি পুরোপুরি এড়ানো না গেলেও সঠিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত পানি, ভিটামিন D–সমৃদ্ধ খাবার এবং ঘরের ধুলো-বালি কমিয়ে রাখলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। বিশেষত শিশু, বয়স্ক ও অ্যালার্জি রোগীদের জন্য এই ৭টি পুষ্টি পরামর্শ বেশ কার্যকর। যাদের একাধিক শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা গ্রহণ করতে পারেন।
