ইসলামের দৃষ্টিতে শুক্রবার, অর্থাৎ জুমার দিন, মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ মর্যাদার দিন। এই দিনটি ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ হিসেবেও পরিচিত। ‘জুমা’ শব্দটির উৎপত্তি আরবি ‘জাম’ বা ‘জমা’ থেকে, যার অর্থ একত্রিত হওয়া। এদিন মুসলমানরা মসজিদে জামায়াতের মাধ্যমে ফরজ নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নানাবিধ ইবাদতে অংশগ্রহণ করে।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে,
“জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য মসজিদে মুসল্লিরা আসতে থাকে, তখন ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় অবস্থান করে এবং আগমনকারীদের নাম একে একে লিখে রাখে। প্রথম আগত ব্যক্তি উট সদকা করার সওয়াব পায়, এরপর গরু, তারপর ছাগল, এরপর মুরগি ও ডিম সদকার সওয়াব অনুযায়ী নাম লেখা হয়। যখন ইমাম খুতবা দিতে মিম্বারে ওঠেন, তখন ফেরেশতারা তাদের নাম লেখার কাজ বন্ধ করে খুতবায় মনোযোগ দেয়।” (সহীহ বুখারি: ৮৮২)
জুমার দিনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একটি পূর্ণ সূরা নাজিল করেছেন — সূরা আল-জুমা।
আয়াতে বলা হয়েছে:
“হে ঈমানদারগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ছুটে আসো এবং সব বেচাকেনা পরিত্যাগ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম— যদি তোমরা বুঝতে পারো।” (সূরা জুমা: আয়াত ৯)
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন,
“জুমার দিন হল সেই দিন, যেদিন হজরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়। সেদিনই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং সেদিনই জান্নাত থেকে বের করা হয়। কিয়ামতও সংঘটিত হবে এই দিনেই।” (সহীহ মুসলিম: ৮৫৪)
আরেকটি হাদিসে নবীজী (সা.) বলেন,
“মু’মিনদের জন্য শুক্রবার হল সপ্তাহের ঈদের দিন।” (ইবনে মাজাহ: ১০৯৮)
জুমার দিনে একটি বিশেষ মুহূর্ত থাকে, যখন বান্দা আল্লাহর দরবারে যা চাইবে, তা অবশ্যই কবুল হবে।
নবী (সা.) বলেন, “জুমার দিন এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা নিশ্চয়ই কবুল হয়, যদি সে নামাজরত অবস্থায় থাকে।” (বুখারি: ৬৪০০)
রাসুল (সা.) বলেছেন,
“তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।” (আবু দাউদ: ১০৪৭)
অন্য হাদিসে এসেছে,
“যে ব্যক্তি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তা’আলা তার ওপর ১০টি রহমত বর্ষণ করেন।” (তিরমিজি)
প্রতিটি জুমার দিনে মুসলিমরা জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজ আদায় করে, যা একটি সম্মিলিত ফরজ ইবাদত। এ নামাজ মুসলমানদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামি চেতনাকে জাগ্রত করে। জুমার খুতবা মুসলিম সমাজকে দিকনির্দেশনা দেয় এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগ করে দেয়।
