সিলেটে ঈদ ঘিরে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় নগরজুড়ে জমে উঠেছে বেচাকেনা। সকাল থেকে সেহরির আগ পর্যন্ত অভিজাত শপিংমল, মার্কেট ও ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে চলছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানের শেষ দশকে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে ঈদের বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। ফলে বড় বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ছোট দোকান—সবখানেই ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
ঈদের কেনাকাটাকে ঘিরে নগরীতে তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট এলাকায় ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর জিন্দাবাজার, লামাবাজার, বন্দরবাজার, নাইওরপুল, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া ঘুরে দেখা যায়—প্রায় সব দোকানেই চলছে ব্যাপক কেনাবেচা। ইফতারের পর কিছুটা ভিড় কমলেও তারাবির নামাজ শেষে আবার জমে ওঠে বাজার।
নগরীর জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় অবস্থিত আধুনিক শপিংমল ও ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে বন্দরবাজার এলাকার বিভিন্ন মার্কেটে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় ছিল বেশি। বিশেষ করে হাসান মার্কেট ও হর্কাস মার্কেটে ক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক কিনছেন ক্রেতারা।
তবে ব্যবসায়ীদের মতে, চলতি বছরে কেনাকাটায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে। সিলেটের বিপুলসংখ্যক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত থাকায় অনেকেই স্বাভাবিকভাবে দেশে অর্থ পাঠাতে পারেননি। ফলে অনেক ক্রেতার বাজেট সীমিত ছিল।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব ও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন জানান, সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ভালো হচ্ছে। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে আসেন এবং রমজান শুরু হওয়ায় তারা দেশে ঈদ উদযাপন করছেন। এতে বাজারে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে কেনাকাটায়।