দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই শিক্ষাক্রম সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার সমন্বয় করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতির পাশাপাশি আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রম পরিমার্জনের কাজও শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ৩০০ জনকে নিয়ে চারদিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষামন্ত্রীও অংশ নেন।
কর্মশালার সুপারিশ অনুযায়ী, আগামী বছর থেকেই পাঠ্যবইয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। বিশেষ করে ইতিহাস বইয়ে ব্যক্তি ও ঘটনার অবদান নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া বিজ্ঞান বিষয়ের বইয়ে ভাষাগত দুর্বলতা দূর করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার কথাও বলা হয়েছে।
নতুন শিক্ষাক্রমে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো হবে। মাধ্যমিক স্তরে অন্তত একটি কারিগরি বিষয় বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হবে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি পরীক্ষার ব্যবস্থাও বহাল থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনতে শুধু ভুল সংশোধন নয়, শিক্ষাক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। দায়সারাভাবে পরিবর্তন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী সব শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
