ছবি: সংগৃহীত
মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো মস্তিষ্ক। স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, চিন্তাভাবনা থেকে শুরু করে শরীরের প্রায় সব কার্যক্রমই নিয়ন্ত্রণ করে এটি। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মানসিক ব্যায়াম বা বই পড়াই নয়, প্রতিদিনের খাবারও ব্রেনের সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্ককে দীর্ঘসময় সক্রিয় ও সতেজ রাখতে সহায়তা করে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে উপকার পাওয়া যায়।
স্যামন, টুনা, সার্ডিন ও ম্যাকারেলের মতো তেলসমৃদ্ধ মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। এই উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে শক্তিশালী করতে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত এ ধরনের মাছ খেলে বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিও কমতে পারে।
পালং শাক, ব্রকলি, মেথিসহ বিভিন্ন সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন কে, ফলেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি রাখা উপকারী।
টমেটোতে থাকা লাইকোপিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এতে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় ধীর হয়। সালাদ, স্যুপ বা রান্নায় নিয়মিত টমেটো খাওয়া উপকারী হতে পারে।
আখরোটে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ওমেগা-৩, যা মস্তিষ্কের পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ব্লুবেরি ও স্ট্রবেরির মতো বেরিজাতীয় ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে অতিরিক্ত কফি পান ঘুমের সমস্যা ও উদ্বেগ বাড়াতে পারে, তাই পরিমিত মাত্রায় পান করাই ভালো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পুষ্টিকর খাবার নয়, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ কম রাখাও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
