আমাদের শরীরের নানা অঙ্গে ক্যানসার হতে পারে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেক সময় উপেক্ষিত রোগ হলো কোলন ক্যানসার। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ দেখা না দেওয়ায় অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। অথচ সময়মতো শনাক্ত হলে এ রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্ভব।
কোলন ক্যানসার হলো বৃহদান্ত্রে (কোলন) সৃষ্ট এক ধরনের ক্যানসার। অনেক ক্ষেত্রে এটি মলদ্বারেও শুরু হতে পারে। সে কারণে একে কোলোরেক্টাল ক্যানসারও বলা হয়। পরিসংখ্যান বলছে, কোলোরেক্টাল ক্যানসারের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এটি কোলনে শুরু হয়।
সবচেয়ে বেশি দেখা যায় Adenocarcinoma, যা কোলন বা রেকটামের ভেতরের শ্লেষ্মা তৈরিকারী কোষ থেকে তৈরি হয়।
তবে এর বাইরে আরও কিছু ধরনের টিউমার থেকেও কোলন ক্যানসার হতে পারে, যেমন—
লিম্ফোমা
কারসিনয়েড
সারকোমা
গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার
রোগ কতটা ছড়িয়েছে, তার ভিত্তিতে কোলন ক্যানসারকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হয়—
স্টেজ ০: ক্যানসার অন্ত্রের একেবারে ভেতরের স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে।
স্টেজ ১: কোলনের মিউকোসা ও মাংসপেশিতে ছড়ালেও লিম্ফ নোডে যায়নি।
স্টেজ ২: ক্যানসার কোলনের দেয়াল বা আশপাশের টিস্যুতে ছড়ালেও লিম্ফ নোড অক্ষত থাকে।
স্টেজ ৩: ক্যানসার লিম্ফ নোডে পৌঁছালেও দূরের অঙ্গে যায় না।
স্টেজ ৪: ক্যানসার লিভার, ফুসফুস বা অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।
শুরুতে সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে সময়ের সঙ্গে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন—
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
মলে রক্ত
পায়খানার রঙ বা আকারে পরিবর্তন
মলদ্বার থেকে রক্তপাত
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি
অতিরিক্ত ক্লান্তি
পায়খানা পুরোপুরি না হওয়ার অনুভূতি
এই উপসর্গগুলো টানা তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে কিছু বিষয় ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন—
বংশগত জেনেটিক পরিবর্তন (যেমন FAP, Gardner’s Syndrome, Lynch Syndrome, Cystic Fibrosis)
বয়স ৫০ বছরের বেশি হওয়া
আগের কোনো পলিপ বা অন্ত্রের রোগ থাকা
পরিবারের কারও এই রোগের ইতিহাস থাকা
কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা বা অস্ত্রোপচারের প্রভাব
আফ্রিকান-আমেরিকান ও আশকেনাজি ইহুদি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি
১. কোলন ক্যানসার কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?
হ্যাঁ, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অপারেশনের মাধ্যমে ক্যানসার পুরোপুরি দূর করা সম্ভব।
২. এটি কি দ্রুত ছড়ায়?
সাধারণত কোলন ক্যানসার ধীরে ছড়ায়। তাই নিয়মিত স্ক্রিনিং করালে রোগ দ্রুত ধরা সম্ভব।
৩. স্টেজ ১ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
স্টেজ ১-এ রোগ অনেক সময় নীরব থাকে। তবে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
নিয়মিত স্ক্রিনিং করা
স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখা
সুষম খাদ্য গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়াম
যাদের পারিবারিক ঝুঁকি বেশি, তাদের সতর্ক থাকা
কোলন ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা প্রথমদিকে নীরব থাকলেও সময়মতো ধরা পড়লে কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ থেকে জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো যায়।
