কফি এখন শুধু পানীয় নয়—অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকালে ঘুম ভাঙানো থেকে শুরু করে কর্মব্যস্ত দিনে মনোযোগ ধরে রাখা কিংবা আড্ডায় চাঙ্গা থাকতে এক কাপ কফির জুড়ি নেই। তবে এই জনপ্রিয় পানীয়টি সবার শরীরের জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় কফি পান স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে অনিদ্রা, অস্থিরতা, হজমজনিত সমস্যা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এমনকি হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও দেখা দিতে পারে। তাই কারা কফি খেলে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন—তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
নিচে এমন ৮ ধরনের মানুষের কথা তুলে ধরা হলো, যাদের কফি পান করার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন—
যাদের শরীর ক্যাফেইন সহ্য করতে পারে না, তারা অল্প কফি খেলেও উদ্বেগ, অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড় বা হজমের সমস্যা অনুভব করতে পারেন। এটি অনেক সময় জিনগত কারণ বা কিছু ওষুধের প্রভাবেও হতে পারে।
পরামর্শ: এসব উপসর্গ দেখা দিলে কফি কমানো বা পুরোপুরি বাদ দেওয়াই ভালো।
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে। এতে কম ওজনের শিশু জন্ম, প্রি-টার্ম ডেলিভারি বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
পরামর্শ: দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন না নেওয়াই নিরাপদ। ডিক্যাফ কফি বা হারবাল চা হতে পারে ভালো বিকল্প।
ক্যাফেইন হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপ, অ্যারিথমিয়া বা অন্যান্য হৃদরোগে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
পরামর্শ: নিয়মিত কফি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কফি স্বাভাবিকভাবেই অ্যাসিডিক। ফলে এটি পাকস্থলির এসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে অ্যাসিডিটি, হার্টবার্ন বা জিইআরডি সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
পরামর্শ: খালি পেটে কফি এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে কম অ্যাসিডযুক্ত বা কোল্ড ব্রিউ কফি বেছে নিতে পারেন।
শিশুদের শরীর ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। এতে ঘুমের ব্যাঘাত, মনোযোগের ঘাটতি, মাথাব্যথা ও উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।
পরামর্শ: শিশুদের কফি না দেওয়াই শ্রেয়। কিশোরদের ক্ষেত্রেও দৈনিক ১০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন না নেওয়া ভালো।
ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে, যা উদ্বেগ, নার্ভাসনেস বা প্যানিক অ্যাটাকের মাত্রা বাড়াতে পারে।
পরামর্শ: এসব সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা কফির বদলে হারবাল চা বা ক্যাফেইনমুক্ত পানীয় বেছে নিতে পারেন।
ক্যাফেইন ঘুমের জন্য দায়ী হরমোন মেলাটোনিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয় বা ঘুম ভেঙে যায়।
পরামর্শ: বিকেল ৪টার পর কফি না খাওয়া এবং ঘুমের অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা উচিত।
অতিরিক্ত কফি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়, যা হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পরামর্শ: দিনে ৩ কাপের বেশি কফি না খাওয়া এবং ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা জরুরি।
কফি নিঃসন্দেহে ক্লান্তি দূর করে ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়। তবে সবকিছুর মতো এখানেও পরিমিতি জরুরি। কফি খাওয়ার পর যদি অনিদ্রা, অস্থিরতা বা হজমের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে হারবাল চা, গ্রিন টি বা ক্যাফেইনমুক্ত পানীয় হতে পারে নিরাপদ বিকল্প।
