শিরোনাম

ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড হবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

: অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০২৬-০১-২৩

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও শ্রম আইনের সংস্কার, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে।

ড. ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন হবে উৎসবমুখর এবং ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। তিনি সবাইকে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানান।

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনে বাংলাদেশ উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক না কেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। তিনি গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে আরও শুল্ক হ্রাস সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে। কৃষিপণ্য ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরগুলোতে আশ্রিত এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।

বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সংযোগস্থল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসিয়ান সদস্যপদের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সংস্থাটির সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের আবেদন করেছে।

তিনি আরও জানান, গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ সরকার এই উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

error: Content is protected !!